কক্সবাজারের হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন পেঁচারদ্বীপ সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া তাদের উদ্ধারে পানিতে নেমে নিখোঁজ হওয়া অন্য এক যুবকের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আরও একজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ মো. হারুন (২০) নামে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রামু উপজেলার হিমছড়ির প্যাঁচারদ্বীপ সৈকতে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এনিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য সকালে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
লাবনী-পয়েন্টে কক্সবাজার
পুলিশ, বিচকর্মী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, টানা ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকা থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে এসে গতকাল বুধবার তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গোসলে নেমে সাগরে তলিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। একই ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদেরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রাকিব হাসান (১৯) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪), সাইবুল হক জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের চাকরিজীবী মোহাম্মদ আকাশ (২১) ও মো. হারুন (২০)। নিখোঁজ শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)।
সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাত বন্ধু বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। পরে হিমছড়ির প্যাঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন একটি রিসোর্টে ওঠেন।
মাহবুব আলম বলেন, খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেল ৪টার দিকে সাত বন্ধু সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। তাদের কেউই সাঁতার জানতেন না। এ সময় সেখানে আরও কয়েকজন গোসল করছিলেন। পানিতে দুজনকে ডুবে যেতে দেখে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান বাকি বন্ধুরা। একপর্যায়ে তারাও সমুদ্রের স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন জানান, নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মোকাররম হোসেনের ছেলে।
নিখোঁজ এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
নিবিড়ের খালা শামীমা সুলতানা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, গত ১৮ অক্টোবর ভ্রমণের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন নিবিড়। প্রথমে তারা বান্দরবান যান। সেখান থেকে বুধবার কক্সবাজারে পৌঁছান।
নিহত আকাশের সঙ্গে বেড়াতে আসা বন্ধু মোহাম্মদ সানি (২০) বলেন, তারা চট্টগ্রামের একটি কারখানায় চাকরি করেন। পাঁচ বন্ধু মিলে বুধবার কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। বিকেলে সাগরে গোসল করতে নামেন তারা।
সানি বলেন, তারা হাঁটুপানিতে ছিলেন। হঠাৎ বড় একটি ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। এ সময় তার বন্ধুরা স্রোতের টানে ভেসে যেতে থাকেন। তখন পাশে থাকা অন্যদের কাছে সাহায্য চান তারা। তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা কয়েকজনও পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হন।
সানি আরও বলেন, তখন সবাই পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। পায়ের নিচ থেকে বালু সরে যাচ্ছিল। কোনোভাবে কয়েকজন তীরে উঠে আসেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা গেলেও কয়েকজন ভেসে যান।
এদিকে চলতি বছর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে এ পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া একজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। সৈকতে বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কক্সবাজার শহরের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী—এই তিন কিলোমিটার এলাকায় লাইফগার্ড সেবা চালু রয়েছে। এর বাইরে সৈকতের অন্যান্য এলাকায় লাইফগার্ড সেবা না থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রতিনিধি/এআরএম




