শারদীয় দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে পাহাড় কন্যা খ্যাত অপরুপা বান্দরবানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। পর্যটকদের বাড়তি চাপে জেলার হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজ গুলোতে আজ ২১ ও আগামীকাল ২২ অক্টোবর শতভাগ বুকড হয়ে গেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা জানায়, বছর জুড়ে কম বেশি পর্যটকের পদ চারণায় মুখর থাকে পাহাড় কন্যা খ্যাত প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই বান্দরবানে। এবার শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র ব্যাপক পর্যটকের ঢল নামায় জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। জেলার বান্দরবান সদরের মেঘলা, নীলাচল,প্রান্তিক লেক,শৈলপ্রপাত, রুপালি ঝরনা,রোয়াংছড়ির দেবতা খুম, রুমার বগালেক,কেওক্রাডং,সুংসাং পাড়া,বান্দরবান-থানচি সড়কের নীলগিরি, থানচির রেমাক্রী, ফলস, তিন্দু,নাফাখুম,তমাতুংঙ্গী,লামার মিরিঞ্জা,আলীকদমের আলীগুহাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ৫০ হাজারের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। যার কারণে জেলার প্রায় সব হোটেল,মোটেল ও কটেজ গুলোও আজ এবং আগামীকাল শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ফলে আগাম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণে আসা অনেকেই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাঈদুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিন আগে থেকে তার স্বজনের জন্য ৩৫-৪০টি হোটেলে গিয়েছেন রুম বুকিয়ের জন্য তবে কোথাও কোনো রুম পাননি। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো রুম পাওয়া যাবে না বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানান তিনি।

নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা টিটু জানায়, আজ সকাল থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পর্যটক নীলাচলে প্রবেশ করেছেন।
রোয়াংছড়ি পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতি চিংনু মং মারমা বলেন, বুধবার ৭শত ৬৩জন পর্যটক দেবতাখুম পর্যটনে ভ্রমণ করেছেন।

হোটেল হিল ভিউ'র ম্যানেজার পারভেজ বলেন, দুর্গা পূজার ছুটি উপলক্ষ্যে তাদের হোটেলে আশানুরূপ পর্যটকের সাড়া পেয়েছেন। আজ ২১ ও ২২ অক্টোবর তাদের হোটেল শতভাগ বুকড হয়ে গেছে।

হোটেল গ্রেন্ডভ্যালীর ম্যানেজার আক্কাস উদ্দীন বলেন, ২১ ও ২২ অক্টোবর শতভাগ কক্ষ বুকড এবং ২৩-২৫ অক্টোবরও গড়ে ৬০-৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তাদের সমিতির অন্তর্ভুক্ত হোটেল-রিসোর্ট গুলো আজ শত ভাগ বুকিং থাকলেও আগামী কাল থেকে এই বুকিং ৬০-৭০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।
বান্দরবান ঝীপ মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইন ম্যান কামাল হোসেন জানান, আজ সকাল থেকে প্রতি গাড়িতে ১৩ জন করে প্রায় ৪৩৭ টি পর্যটক বাহী গাড়ি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, পর্যটকদের বান্দরবান ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র ও বিভিন্ন চেকপোস্টে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিনিধি/ এজে




