ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ঝালকাঠির চার উপজেলায় ১৪ দিনে ৫২ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক মূল্য ৯৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা। এ সময়ে সাতটি মামলা হয়েছে এবং চারজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে জেলা মৎস্য বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণে ২১৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময়ে ৩৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে মোট ৮৩ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে নলছিটিতে সবচেয়ে বেশি জাল জব্দ করা হয়েছে। এ উপজেলায় ৫৮টি অভিযানে ২৩ লাখ ৭৮ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া দুটি মামলা হয়েছে এবং দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি সদরে ৫১টি অভিযানে ১০ লাখ ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। এসব জালের আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। এ উপজেলায় তিনটি মামলা হয়েছে। তবে কাউকে কারাদণ্ড দেওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
রাজাপুরে ৫৪টি অভিযানে আট লাখ ৪৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। এসব জালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ উপজেলায় দুটি মামলা হয়েছে এবং দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কাঁঠালিয়ায় ৫১টি অভিযানে নয় লাখ ৫০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ উপজেলায় পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও কোনো মামলা বা কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩২০টি আড়ত ও ১৬২টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলার নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নজরদারি করা হচ্ছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং মা ইলিশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/ এজে




