ভোলার লালমোহনে চুরির অপবাদে চার কিশোরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তিন দফায় মারধর ও মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী কিশোর সাগরের বাবা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে লালমোহন থানায় মামলাটি করেন।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর রাতে লালমোহন উপজেলার চর উমেদ ইউনিয়নের খালগোড়া বাজার এলাকায় কলস চুরির অপবাদে চার কিশোরকে মারধর ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কিশোরেরা হলো সাইফুল ইসলাম (১৬), সাগর (১৭), ইব্রাহিম (১৭) ও শাওন (১৭)।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বিএনপি নেতা বাহাদুর, মন্নান ও জাকিরসহ কয়েকজন ওই চার কিশোরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তিন দফায় মারধর করেন। পরে তাদের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার একটি প্রতিবেদন চ্যানেল ভোলায় প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে এক কিশোরের বাবা থানায় মামলা করেন।
মামলার বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা তাঁকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে তিনি, তাঁর ছেলেসহ চার কিশোর ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মামলা দায়েরের পর তাঁরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভোলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।
প্রতিনিধি/এজে




