শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রংপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বিভাগীয় নগরীসহ পুরো জেলায়।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণে নতুন সাজে সেজেছে নগরীর সড়ক, ডিভাইডার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো। সৈয়দপুর থেকে রংপুর মহানগর পর্যন্ত চলছে বরণ আয়োজন। জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে পাগলাপীর পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত দলীয় নেতাকর্মী ও রংপুরবাসী। ভাওয়াইয়া গানের সুরে সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন।
সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দের পর রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন আনন্দের মাত্রা বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির (রংপুর ধর্মসভা) পরিদর্শন করবেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। রাজধানীর বাইরে শারদীয় উৎসব দেখতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, এ সফর রংপুর নগরীকে আলোকিত করবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরজুড়ে সাজ সাজ অবস্থা বিরাজ করছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সড়ক ও রোড ডিভাইডারগুলো ধুয়ে-মুছে রং করা হয়েছে। ডিভাইডারে লাগানো হয়েছে ছোট ছোট ফুলের গাছ। নগরীর প্রধান সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়েছে। নগরীর বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শারদীয় দুর্গোৎসব কমিটি, সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ এবং রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো বিশাল বিশাল ব্যানার।
টাউনহল চত্বরের প্রধান ফটকে মঞ্চ তৈরি করে ভাওয়াইয়া গানে গানে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গানে গানে বরণ এবং সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরবেন জাসাস মহানগর ও জেলার শিল্পীরা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ। এ ছাড়া রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দল, জিয়া সংসদসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সমাজকর্মী সেরাফুল ইসলাম হিমেল বলেন, রংপুর নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো এতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আগে কখনো তেমন দেখা যায়নি। এখন কোন বাড়তি ব্যানার ফেস্টুন কিংবা ফুটপাত দখল করে এলোমেলো করে বসানো দোকান নেই। একটি পরিকল্পিক নগরী। আমরা এমন নগরী চাই। বিদেশের শহরগুলো মতো দেখতে চাই রংপুর নগরীকে।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এটি হয়তো খুবই ক্ষণস্থায়ী। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেই হয়তো আবারো আগের রুপে ফিরবে রংপুর। যদিও সেই অবস্থা আমরা দেখতে চাই না।’
প্রতিনিধি/এমআর




