ঝালকাঠিতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১২ দিনে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। গত ৮ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার চার উপজেলায় ১৮২টি অভিযান চালিয়ে এসব জাল জব্দ করা হয়। এ সময় সাতটি মামলা হয়েছে এবং চারজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে জেলা মৎস্য বিভাগের অভিযানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ৮০ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। একই সময়ে ৫৭ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
চার উপজেলায় পরিচালিত অভিযানের মধ্যে নলছিটিতে সবচেয়ে বেশি জাল জব্দ করা হয়েছে। এ উপজেলায় ৫০টি অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজার ৮০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দ জালের আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ উপজেলায় দুটি মামলা হয়েছে এবং দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৪৩টি অভিযান চালিয়ে ৮২ হাজার ৫০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। এসব জালের আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। এ উপজেলায় তিনটি মামলা হয়েছে।
কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৪৩টি অভিযান চালিয়ে ৮৩ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দ জালের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে রাজাপুর উপজেলায় ৪৬টি অভিযান চালিয়ে ৬৪ হাজার ৫০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। এসব জালের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ উপজেলায় দুটি মামলা হয়েছে এবং দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১২ দিনে চার উপজেলায় মোট ৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি মাছঘাট, ২৮টি অবতরণকেন্দ্র, ২৭৮টি আড়ত ও ১৪৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া কাঁঠালিয়ায় ৩২ কেজি, ঝালকাঠি সদরে ১১ কেজি, নলছিটিতে ১০ কেজি এবং রাজাপুরে চার কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, মা ইলিশের প্রজনন রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা জরুরি। এ জন্য জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা ও অবৈধ জালের ব্যবহার প্রতিরোধে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি/এলএ




