ফেনীতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৪ জনের। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯১ জন। গত বছর পুরো সময়ে জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ২০১ জনের। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ গুণেরও বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার ৩০ জন, সোনাগাজীর ৭ জন, দাগনভূঞার ২ জন, ছাগলনাইয়ার ৩ জন ও পরশুরামের ৩ জন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৯৭ জন। চলতি বছরে উপজেলাভিত্তিক শনাক্তের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে ফেনী সদর। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৮৬৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া সোনাগাজীতে ১০৬, দাগনভূঞায় ৭৯, ছাগলনাইয়ায় ৫৭, পরশুরামে ৩০ এবং ফুলগাজীতে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৭৫৪ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০৪ জন। বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৪২ জন, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, ছাগলনাইয়ায় ৩ জন এবং পরশুরামে ১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, ডেঙ্গু শনাক্তে জেলায় মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৩ হাজার ২২টি, ছাগলনাইয়ায় ৩৮১টি, সোনাগাজীতে ২৩০টি, দাগনভূঞায় ১০০টি, ফুলগাজীতে ৯৬টি এবং পরশুরামে ৫৬টি কিট রয়েছে।
সিভিল সার্জন মো. আরিফুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলায় বর্তমানে ৩ হাজার ৮৮৫টি কিট মজুদ রয়েছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রতিনিধি/এলএ




