সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

১০ ফুটের দূরত্ব, ৫৪ বছরের সম্প্রীতি: আজানে থামে ঢোল, নামাজ শেষে পূজা

অনিকেত মাসুদ, বরিশাল
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

১০ ফুটের দূরত্ব, ৫৪ বছরের সম্প্রীতি: আজানে থামে ঢোল, নামাজ শেষে পূজা
বরিশালে একই মাঠে মসজিদ ও মন্দির। ছবি: ঢাকা মেইল

একই মাঠে মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ ও মন্দির। আজান হলে বন্ধ থাকে ঢাক-ঢোল, নামাজ শেষে আবার শুরু হয় পূজার্চনা। এভাবেই ৫৪ বছর ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে পাশাপাশি রয়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা এলাকার শেনেরহাট বাজার জামে মসজিদ ও সার্বজনীন দুর্গা মন্দির।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একই মাঠের এক পাশে মসজিদ, অন্য পাশে মন্দির। দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে চলছে নানা আয়োজন। এতে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও। অন্যদিকে মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নেই কোনো বিরোধ; বরং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে আধুনা শেনেরবাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে একই মাঠে নির্মাণ করা হয় জামে মসজিদ। এরপর থেকে পাশাপাশি দুই উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

মন্দিরের পূজারী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, ‘মসজিদে আজান শুরু হলে আমরা পূজার অনুষ্ঠানে বিরতি দিই। নামাজ শেষ হলে আবার কার্যক্রম শুরু করি। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কেউ কারও জন্য বিরক্তির কারণ হননি। বরং দুই ধর্মের মানুষই নিজেদের উপাসনালয়কে আগলে রেখেছেন।’

স্থানীয় সমাজসেবক মাকসুদ মৃধা বলেন, ‘এখানে সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। আমাদের পূর্বপুরুষরাও এমন পরিবেশ বজায় রেখেছেন। ছোটবেলা থেকেই আমরা পূজা দেখতে মণ্ডপে যাই। আবার ঈদ কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানেও আমাদের হিন্দু প্রতিবেশীরা অংশ নেন।’

মন্দির কমিটির সভাপতি শংকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘১৯৭২ সালে আধুনা শেনেরবাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে একই মাঠে জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদ ও মন্দিরের দূরত্ব মাত্র ১০ ফুট হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।’

আধুনা শেনেরবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। মসজিদে আজান হলে হিন্দু ভাইয়েরা ঢাক-ঢোলের আওয়াজ বন্ধ রাখেন। আজান ও নামাজ শেষ হলে আবার তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। বছরের পর বছর ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন।’

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের একই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে বসবাস করবেন।’

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর