ভোলার লালমোহনে চুরির অভিযোগে চার কিশোরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তিন দফায় মারধর ও মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি ও যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার এক কিশোরের বাবার দাবি, চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকলেও বন্ধুত্বের কারণে তাঁর ছেলেকে ধরে নিয়ে মারধর ও অপমান করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী চার কিশোর হলো—মো. সাইফুল ইসলাম (১৬), মো. সাগর (১৭), মো. ইব্রাহিম (১৭) ও মো. শাওন (১৭)। তারা সবাই উপজেলার চর উমেদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খালগোড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর রাতে উপজেলার গজারিয়া খালগোড়া বাজার এলাকার শাহাজান মিয়ার বাড়ি থেকে দুটি কলস ও একটি চসমান চুরির ঘটনা ঘটে। পরে চুরি হওয়া মালামাল বিক্রি করতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে বলে জানা যায়। এরপর বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনকে জানানো হলে তাঁরা এসে সাইফুলের সঙ্গে থাকা তার তিন বন্ধু সাগর, ইব্রাহিম ও শাওনকেও ধরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে চার কিশোরকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চুরির ঘটনায় সাইফুলের সম্পৃক্ততার কথা বলা হলেও বাকি তিন কিশোরের এ ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। শুধু সাইফুলের বন্ধু হওয়ার কারণে তাদেরও মারধর ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাগর জানায়, সাইফুল তার বন্ধু হওয়ায় তার সঙ্গে চলাফেরা করত। তবে সাইফুল চুরি করেছে কি না, সে বিষয়ে সে কিছুই জানত না। শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দেওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের তুলে নিয়ে যান। পরে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
সাগরের বাবা আলমগীর মিয়া বলেন, ছেলেকে মারধরের পর তাঁকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকেও নিজের ছেলেকে মারধর করতে বলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতির চাপে তিনি নিজেই ছেলেকে মারধর করেন। এরপরও তাঁর ছেলেকে রেহাই দেওয়া হয়নি, কেটে দেওয়া হয় মাথার চুল।
আলমগীর মিয়ার দাবি, তাঁর ছেলে চুরির ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। শুধু সাইফুলের বন্ধু হওয়ার কারণে তাকে ধরে এনে মারধর ও অপমান করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বাহাদুর চৌকিদার জানান, ওই চার কিশোর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার কিশোরকে ধরে এনে মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে আর চুরি না করে।
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রেখে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অধিকার কারও আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করাই যথাযথ প্রক্রিয়া। বিচারের নামে নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ভুক্তভোগী সাগরের বাবা আলমগীর মিয়া চারজনকে আসামি করে থানায় এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিনিধি/এজে




