ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর বোন মাসুমা হাদি। তাঁর অভিযোগ, আধিপত্যবাদ বিরোধী লেখালেখি, বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের কারণে ওসমান হাদি বিভিন্ন পক্ষের নিশানায় পড়েছিলেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন মাসুমা হাদি।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ২০২৪ সালের পর ওসমান হাদিকে নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করতেন। তাঁর সহকর্মী ও পরিচিত ব্যক্তিরা ওসমান হাদিকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিতে বলতেন। তবে ২০২২ সাল থেকেই ভাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে দাবি করেন।
মাসুমা হাদি লেখেন, ওসমান হাদির আধিপত্যবাদ বিরোধী ধারালো লেখালেখি দেখে তিনি তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ‘রজস্রাবের রাষ্ট্র’ লেখার পর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
ভাইকে দেশের বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, তিনি ওসমান হাদিকে জিয়ারি শুরু করতে বলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড অথবা অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশে ওসমান হাদি নিরাপদ নন বলে তিনি মনে করতেন।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় ওসমান হাদি পড়াশোনা ছেড়ে আন্দোলনে যোগ দেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তাঁর বোন। ১৮ জুলাই তাঁর পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত ছিল জানিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, আবু সাঈদের মৃত্যুসহ তৎকালীন পরিস্থিতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হেনস্তার ঘটনায় ওসমান হাদি রাজপথে নেমে আসেন।
এরপর ভাইকে আর পড়াশোনার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য চাপ দেননি জানিয়ে তিনি লেখেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে ওসমান হাদির মতো মানুষের প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, ওসমান হাদি সাংস্কৃতিক লড়াই শুরু করে আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব তৈরি করেছিলেন।
স্ট্যাটাসে মাসুমা হাদি আরও অভিযোগ করেন, পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ও অন্যান্য পক্ষ ওসমান হাদিকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর দাবি, ওসমান হাদির সঙ্গে তুলনায় অন্য যাঁদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হতো, তাঁদের তেমন কিছু হয়নি।
ভাইকে নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, তিনি বিশ্বাস করতেন, ওসমান হাদি অন্তত আরও পাঁচ বছর বেঁচে থাকবেন এবং দেশে অনেক মৌলিক পরিবর্তন আনবেন। কিন্তু তাঁকে এত দ্রুত হারাতে হবে, তা তিনি ভাবেননি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি হত্যার পর তাঁকে জনমনে অস্তিত্বহীন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাসুমা হাদি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধ্বংস কামনা করে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে তার লাশ দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।
প্রতিনিধি/এএম




