শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শারদীয় উৎসবের আলোয় আঁধার সত্যেন্দ্র-বাসন্তীর জীবন, ঘরে নেই চাল

এম এ কালাম, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

শারদীয় উৎসবের আলোয় আঁধার সত্যেন্দ্র-বাসন্তীর জীবন, ঘরে নেই চাল
অসহায় দম্পতি সত্যেন্দ্র চন্দ্র সরকার ও বাসন্তী রানী সরকার। ছবি: ঢাকা মেইল

শারদীয় দুর্গাপূজা নিয়ে গ্রাম থেকে শহর চারিদিকে সাজসাজ রব। অনেকেই পরিবারের জন্য করছেন কেনাকাটা। কিন্তু ময়মনসিংহের ফুলপুরে এক দরিদ্র হিন্দু বয়স্ক দম্পতির ঘরে নেই পূজার আনন্দ। নতুন জামা কাপড় দূরের কথা- ঘরে নেই এক মুঠো চাল। বাড়ির পাশেই ১৮৭ বছরের মণ্ডপে ঢাকের শব্দ কানে আসবে নিরানন্দ হয়ে।

অসহায় ওই হিন্দু দম্পতির বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের মোকামিয়া গ্রামের তালুকদার বাড়ির সামনে। পরের জমিতে ভাঙাচোরা টিন দিয়ে ছাপড়ার তুলে বসবাস করছেন সত্যেন্দ্র চন্দ্র সরকার (৮০) ও তার স্ত্রী বাসন্তী রানী সরকার (৭৫)। 

চার মেয়ে বিয়ের পর থাকেন স্বামীর বাড়িতে। নয়ন সরকার নামে একমাত্র সন্তান বিয়ে করে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। যতদিন গায়ে জোর ছিল প্যাডাল রিকশা চালিয়ে স্ত্রীর সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন। ১০ বছর ধরে বন্ধ প্যাডেল রিকশা চালানোর কাজ। অভাবে নিজের ইচ্ছা থাকলেও শরীর সে শক্তি দেয় না।

সত্যেন্দ্র চন্দ্র সরকার জানান, বিবাস তালুকদারের দেওয়া দুই শতাংশ জমির উপর টিনের ছাপড়া ঘর তোলে বসবাস করছি। গায়ে যতদিন জোর ছিল প্যাডাল রিকশা চালিয়ে ৪ মেয়ে ১ ছেলে সন্তান বড় করেছি। ৪ মেয়ের বিয়ে হয়েছে- তাদের সংসারও ভালো না। একমাত্র ছেলে নয়ন সরকার বিয়ে করে থাকে শ্বশুরবাড়িতে। 

কথাগুলো বলতে গিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন সত্যেন্দ্র। বিড়বিড় করে কিছু একটা বলে বললেন, এখন মানুষের কাছ থেকে চেয়ে মেগে খাই। একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড ছিল ৬ মাস ধরে তাতেও টাকা আসে না। ঘরে দুমুঠো চাল নেই, স্ত্রী অসুস্থ। নিজে শ্বাস কষ্টের রোগী। কোথাও যেতে পারি না। পূজায় নতুন জামা, ভালো খাবার আমার কাছে স্বপ্নের মতো। বাড়ির কাছে পূজামণ্ডপ থেকে ঢাকের শব্দ কানে এলেও সেই আনন্দ কি আমরা পাব। 

কথাগুলো বলতে গিয়ে সত্যেন্দ্রের দু’চোখ ভেজে যায়, কন্ঠ ভারী হয়ে উঠে।

বাড়ির পাশের বিবাস তালুকদার জানান, অসহায় দম্পতির থাকার নিজস্ব জায়গা নেই। আমি দুই শতাংশ জমি দিয়েছি। এলাকার মানুষের সহযোগিতায় একটি টিনের ছাপড়াঘর করে দিয়েছি। সন্তানরা তাদের কেন খবর রাখেন না। বয়স্ক ওই দম্পতির এখন দিনে দিনে অসুস্থতা বাড়ছে। আসুন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবতার টানে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর