শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

দুর্গাপূজার ছুটি: কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

দুর্গাপূজার ছুটি: কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল
পর্যটকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: ঢাকা মেইল

সমুদ্রের ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর আর নীল জলরাশির টানে দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে বাড়তে শুরু করেছে পর্যটকের ভিড়। ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের ছুটি সামনে রেখে এরই মধ্যে শহরের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এ সময়ে ৮ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত। কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরছেন, কেউ বিচ বাইক কিংবা জেটস্কিতে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আবার কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে উঠেছেন আনন্দে।

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে আবাসন ও বিনোদনসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

02

সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় পর্যটক মিহির কুমার ও বেবি দাশের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘পূজার ছুটিতে কক্সবাজার আসার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। অফিস থেকে অগ্রিম ছুটিও নিয়েছি। এখানে এসে বেশ ভালো লাগছে।’

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘ইতোমধ্যে পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে। ভালো মানের হোটেল-রিসোর্টের বেশির ভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূজার ছুটিতে ৮ লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন।’

পর্যটন ব্যবসায়ী মুকিম খান বলেন, ‘টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তারকা মানের হোটেলগুলোর বেশির ভাগ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা এবার ভালো একটি সপ্তাহের প্রত্যাশা করছেন।’

03

তারকা মানের হোটেল ওশান প্যারাডাইসের জনসংযোগ কর্মকর্তা সায়ীদ আলমগীর বলেন, ‘পর্যটকদের সেবা দিতে তারকা হোটেলগুলো সব সময় প্রস্তুত থাকে। টানা ছুটিতে সাধারণত হোটেলগুলোতে উল্লেখযোগ্য বুকিং হয়। দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এবারও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ছুটির প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাদের হোটেলে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রয়েছে।’

হোটেল কক্স টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকেই পর্যটক আসতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে হোটেলের প্রায় সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অতিথিদের শুভেচ্ছা জানানো হবে। পাশাপাশি রিসোর্টের রেস্তোরাঁ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’

বাড়তি যাত্রীর জন্য বিশেষ ট্রেন

দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারমুখী যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা স্পেশাল’ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছাবে।

২৩ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেন সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছাবে।

04

এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘চট্টগ্রাম স্পেশাল’ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন ভোর ৪টায় চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বিশেষ ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘টানা ছুটিতে কক্সবাজারগামী যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে। এ চাপ সামাল দিতেই বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।’

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন চালু হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। এতে সড়কপথের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপত্তায় বাড়তি নজর
বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে আবাসন ও পরিবহনের পাশাপাশি সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান বলেন, ‘পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়বে। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’

পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘পর্যটকদের সেবায় আমাদের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। সৈকতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।’

সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের ছুটিকে ঘিরে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজে ফিরেছে কক্সবাজারের সৈকত। পর্যটকদের ঢল সামলে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে এবারের ছুটি পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্যও হতে পারে বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময়।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর