বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

প্রথম বিয়ের তথ্য জেনে যাওয়ায় জান্নাতুলকে হত্যা দ্বিতীয় স্বামীর

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রথম বিয়ের তথ্য জেনে যাওয়ায় জান্নাতুলকে হত্যা দ্বিতীয় স্বামীর
জান্নাতুল ফেরদৌস (ইনসেটে) / সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা খাল থেকে উদ্ধারকৃত বস্তাবন্দি নারী মরদেহের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রথম বিয়ের তথ্য জেনে যাওয়ায় দ্বিতীয় স্বামীই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (২৮)। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতারসহ ব্যবহৃত একটি সাম্পানও জব্দের কথা জানিয়েছে পিবিআই। 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিহতের স্বামী রাজা মিয়া প্রকাশ রাজু, মো. মুসলিম উদ্দিন ও শুকুর আহম্মদ।

গত ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাট সংলগ্ন খাল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাতুলকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার মা ছায়রা খাতুন কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নিহত জান্নাতুলের প্রথম সংসারের একটি সাত বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে। বাঁশখালীতে বাবার বাড়ি হলেও জান্নাতুল চট্টগ্রাম নগরীর একটি জুতা তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকায়। 

জান্নাতুলের প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ে করেন রাজাকে। যদিও এ সময় রাজা নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেই জান্নাতুলকে বিয়ে করেন। 

বছর খানেক সংসার করার পর জান্নাতুল জানতে পারেন যে রাজা তাকে মিথ্যা বলে বিয়ে করেছেন, রাজার আগের একটি সংসার ছিল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের জেরে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে তাকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যায় রাজা। এরপর সে ও তার সহযোগীরা একটি সাম্পান নৌকায় করে শিকলবাহা খালে যায়। রাত ৮টার পর নৌকার মধ্যে জান্নাতুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি লাশ কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খালে ফেলে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্বামী রাজাকে গ্রেফতারের পর, টেকনাফ থেকে মো. মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুকুর আহম্মদকে গ্রেফতার এবং সাম্পানটি জব্দ করা হয়। মুসলিম উদ্দিন ১৪ অক্টোবর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। । 

প্রতিনিধি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর