নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাধুরখিল গ্রামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী পরিবারের ১৬৪ শতাংশ পৈত্রিক এবং ঢাকার একটি বাড়ি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের কৃষিজমি ও মাছের প্রজেক্ট থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটারও রয়েছে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা ভেকু ব্যবহার করে জমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করছে, ফলে তারা কয়েক কোটি টাকার সম্পদহানির ঝুঁকিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তার চার মেয়ে সুজানা আক্তার, তাসলিমা আক্তার, রাবেয়া বেগম ও রাহিমা খাতুন- সবাই প্রবাসে অবস্থান করছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাদের ফসলি জমি ও মাছের প্রজেক্ট থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাটি ইতোমধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তারা।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারটি জানতে পারে, সুজানা আক্তারের সাবেক স্বামী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ সেলিম স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সহযোগিতায় এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা হলেন- আবুল কালাম, মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, আবদিন সাহেব, টিপু মো. রাজু আহমেদ, শাহ জামাল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মনোয়ারা ২ জুন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ওই অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, আমরা প্রবাসে থাকার কারণে দুর্বৃত্তরা দিন-রাত আমাদের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে। আমাদের বাড়ি দখল করে ইয়াবা, নারী ব্যবসা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ সেলিম এদের অর্থ যোগানের মাধ্যমে লালন-পালন করছে, অভিযুক্ত সেলিম প্রবাসী সুজনা আক্তারের ঢাকার মিরপুরের ছয় তলা বাড়িটিও দখল করে আছে।
অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি রক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী মনোয়ারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সেলিমকে একাধিকবার তার বিদেশি ফোন নম্বরে ফোন করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্য দিকে অভিযুক্ত বিএনপি কর্মীদের মধ্যে মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে ফোন দেবেন বলে জানান। পরে আর ফোন না দিলে তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।
চাটখিল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হানিফ জানান, এমন কোনো খবর আমার জানা নেই। তবে যদি বিএনপির কেউ জড়িত থাকে, তাদের নামগুলো দিলে আমরা তদন্ত করে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মন্নাপ বলেন, এ বিষয়ে কেউ এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এলএ




