শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা। ঐতিহ্যবাহী নারিকেলের নাড়ু ও মোয়া তৈরির উপকরণ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় দাম কমেছে বেশ কিছুটা। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। তবে গুড়ের দাম রয়েছে স্বাভাবিক পর্যায়ে।
আর মাত্র দুই দিন পর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে বাড়িতে বাড়িতে চলছে নানা প্রস্তুতি। পূজার ঐতিহ্যবাহী খাবার নারিকেলের নাড়ু ও মোয়া তৈরির জন্য নারিকেল ও গুড় কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে হিলি বাজারের গুড় ও নারিকেলের হাট ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের গুড় ও নারিকেল। কোথাও মাটির বড় বড় পাত্রে রাখা হয়েছে আখের গুড়, আবার কোথাও টিনের পাত্রে বিক্রি হচ্ছে ভারত থেকে আমদানি করা গুড়।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশি আখের গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি করা আখের গুড় ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় প্রতি পিস নারিকেলের দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকায় নেমেছে।
বাজারে নারিকেল কিনতে আসা পলাশ শীল বলেন, আগামী শনিবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আমাদের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আমাদের ধর্মীয় উৎসবে গুড় ও নারিকেল দিয়ে তৈরি নাড়ুর অনেক চাহিদা। তাই বাজারে নারিকেল ও গুড় কিনতে এসেছি। আগের তুলনায় নারিকেলের দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা অলক কুমার বসাক বলেন, ‘আমাদের পূজায় খাবারের মধ্যে নাড়ুর বিশেষ কদর রয়েছে। এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার। পূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নারিকেল ও গুড় কিনতে বাজারে এসেছি।’
হিলি বাজারের নারিকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, ‘সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে নারিকেলের বেচাকেনা কিছুটা বেড়েছে। ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় দামও আগের তুলনায় কমেছে। বর্তমানে প্রতি পিস নারিকেল ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি।’
বাজারের গুড় ব্যবসায়ী নিরঞ্জন বসাক বলেন, ‘বর্তমানে গুড়ের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। দেশি গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি করা আখের গুড় ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।’
তিনি আরও জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় দুর্গাপূজার উৎসব এলে আমাদের বেচাকেনা অনেক বেড়ে যায়। দাম তুলনামূলক সহনীয় থাকায় গুড়ের বিক্রিও ভালো হচ্ছে।’
এএইচ



