মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

তেঁতুলিয়ার নীল আকাশে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার, কাশফুলে মুগ্ধ পর্যটকরা

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

তেঁতুলিয়ার নীল আকাশে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার, কাশফুলে মুগ্ধ পর্যটকরা
ছবি: সংগৃহীত

শরতের শুভ্র কাশফুলের দোল, মেঘমুক্ত নীল আকাশ আর দিগন্তজুড়ে বরফে মোড়ানো হিমালয়ের অপরূপ শৃঙ্গ-প্রকৃতির এমন অনিন্দ্যসুন্দর মেলবন্ধনে মুগ্ধ উত্তরের সীমান্ত জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। হঠাৎ করেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে দৃশ্যমান হয়েছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। দূর দিগন্তে তুষারাবৃত পর্বতের রাজকীয় উপস্থিতি উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৫ টা ৩০ মিনিট থেকে তেঁতুলিয়াসহ পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে চোখে পড়ে হিমালয়ের মনোমুগ্ধকর এই শৃঙ্গ। সকালবেলার স্বচ্ছ আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য ফুটে উঠতেই পর্যটকদের মধ্যে দেখা দেয় উচ্ছ্বাস। অনেকেই মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখতে মুঠোফোনে ধারণ করেন ছবি ও ভিডিও। পরে সেসব দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

প্রতি বছর শরৎ ও হেমন্তের সন্ধিক্ষণে, বিশেষ করে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ মেলে। এবারও প্রকৃতির এমন মনোরম রূপ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে মাঠজুড়ে কাশফুলের শুভ্রতা, অন্যদিকে দূরের দিগন্তে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গ-সব মিলিয়ে তেঁতুলিয়া যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকা ছাড়াও শালব,ভুতি পুকুর ও তিরনই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করেছেন অনেকে। বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকলে পর্বতশৃঙ্গটি তুলনামূলক স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ঠাকুরগাঁও থেকে আসা রেজাউল হাফিজ রাহী বলেন, কয়েক বছর ধরেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে তেঁতুলিয়ায় আসছি। এবারও নিজের চোখে সেই অপূর্ব দৃশ্য দেখার সুযোগ হলো। চারপাশে কাশফুল আর সামনে হিমালয়ের বরফঢাকা শৃঙ্গ-সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে যেন কোনো রূপকথার রাজ্যে এসেছি।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আবু নাইম বলেন, সকালে হঠাৎ আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা চোখে পড়ে। এমন দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে রাখি। নিঃসন্দেহে এটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

দিনাজপুর থেকে বেড়াতে আসা রওনক জাহান জানান, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নার এলাকায় ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ তার চোখে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দৃশ্যটির সৌন্দর্য তাকে এতটাই মুগ্ধ করে যে স্মৃতি ধরে রাখতে মুঠোফোনে কয়েকটি ছবি তুলে রাখেন।

Screenshot_2026-10-13_120246

স্থানীয়রা জানান, তেঁতুলিয়ার উঁচু ও খোলা স্থান থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। তবে আকাশে মেঘ, কুয়াশা কিংবা বায়ুমণ্ডলে দৃশ্যমানতা কম থাকলে পর্বতশৃঙ্গটি স্পষ্ট দেখা নাও যেতে পারে। তাই অনেক পর্যটক ভোর কিংবা সকালবেলাকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেন।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ট্যুরিস্ট পুলিশ পঞ্চগড় জোনের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল আজিজ ইসলাম জানান, গত দুই দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে। ভ্রমণকালে কোনো সমস্যায় পড়লে পর্যটকেরা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন।

প্রকৃতির অনন্য এই দৃশ্য শুধু পর্যটকদের মুগ্ধই করছে না, বরং নতুন করে তুলে ধরছে পঞ্চগড়ের পর্যটনসম্ভাবনাও। শরতের কাশফুল আর হিমালয়ের তুষারশুভ্র শৃঙ্গকে একসঙ্গে দেখার আকর্ষণে তেঁতুলিয়া হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতেও তেঁতুলিয়ার আকাশে দেখা মিলতে পারে কাঞ্চনজঙ্ঘার। প্রকৃতির এই ক্ষণিকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে তাই পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে উত্তর জনপদের এই সীমান্ত এলাকায়।

প্রতিনিধি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর