মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শারদীয় দুর্গোৎসবে মুখরিত গোপালগঞ্জ, নিরাপত্তা জোরদার

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

শারদীয় দুর্গোৎসবে মুখরিত গোপালগঞ্জ, নিরাপত্তা জোরদার

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় এখন উৎসবের আমেজ। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা সাজানোর কাজ, কোথাও বর্ণিল আলোকসজ্জা, আবার কোথাও তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথ। এ বছর জেলায় ১ হাজার ২৮৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবকে আনন্দময় ও নিরাপদ করতে প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে কাজ করছে প্রশাসন।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মধ্যদিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ধারাবাহিকভাবে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমীর ধর্মীয় আচার পালিত হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫০টি, কোটালীপাড়ায় ৩১৫টি, মুকসুদপুরে ৩০৭টি, কাশিয়ানীতে ২২৬টি এবং টুঙ্গিপাড়ায় ৯০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ উপজেলার মোট মণ্ডপের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৮টি। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য সরকারিভাবে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উৎসব সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, রং করা এবং সাজসজ্জার কাজ। প্রতিমাশিল্পীরা নিপুণ হাতে দেবী দুর্গার প্রতিমায় ফুটিয়ে তুলছেন নানা কারুকাজ। পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্য বাড়াতে চলছে আলোকসজ্জা ও প্রবেশপথ নির্মাণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা।

উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। 

জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ টহল জোরদার করা হবে। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সব প্রস্তুতি শেষে এখন ভক্তদের অপেক্ষা ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর