সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বাগেরহাট হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বাগেরহাট হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ
বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী চিকিৎসক সাকিয়া হক। ছবি: ঢাকা মেইল

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে মধ্যরাতে দায়িত্ব পালনরত এক নারী চিকিৎসককে গালাগাল ও মারতে তেড়ে আসার অভিযোগ উঠেছে এক রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। 

ক্যানুলা পরানো নিয়ে বিরোধের জেরে ওই ব্যক্তিরা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।

ভুক্তভোগী চিকিৎসক সাকিয়া হক বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার। ঘটনার পর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কর্মক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সাকিয়া হক বলেন, রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার দায়িত্ব ছিল। ওই সময়ে হাসপাতালটিতে তিনিই একমাত্র চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে এক রোগী হাসপাতালে আসেন। প্রথমে তার ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) করা হয়। পরীক্ষা ও রক্তচাপসহ অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিকভাবে হৃদযন্ত্রের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। পরে গ্যাসজনিত সমস্যার জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইনজেকশন দেওয়ার জন্য রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে গিয়ে প্রথমে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ব্যর্থ হন। পরে একজন ওয়ার্ডবয়ও চেষ্টা করেন। এ সময় রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের সামলাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা শিশু বিভাগের নার্সদের ডাকতে যান। এর মধ্যেই কয়েকজন চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাকে গালাগাল করেন এবং মারতে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাকিয়া হক বলেন, রোগীর সঙ্গে আসা লোকজন বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। তারা আমার কক্ষে ঢুকে গালাগাল করেন। বারবার মারতে তেড়ে আসেন। তারা গায়ে হাত দেননি। তবে পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তারা গায়ে হাত দিতেন কি না- তা বলা কঠিন। তার চিৎকার ও হট্টগোল শুনে হাসপাতালের কর্মী এবং অন্য রোগীর স্বজনরা এগিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালের কর্মীরা ওই ব্যক্তিদের চিকিৎসকের কক্ষ থেকে সরিয়ে দেন।

চিকিৎসক বলেন, রোগীকে ইনজেকশন দেওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ক্যানুলা পরানোর ক্ষেত্রে একাধিকবার চেষ্টা করতে হতে পারে। তবে রোগীর চাপ ও লোকজনের ভিড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তার ভাষায়, হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত নার্স ও ওয়ার্ড বয়দেরও ক্যানুলা পরানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এ কারণে কোনো চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাকে গালাগাল করা বা মারতে তেড়ে আসা গ্রহণযোগ্য নয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কোনো হাসপাতালেই এমন পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতালে পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন, অথচ প্রয়োজনীয় পদের তুলনায় কর্মীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সীমিত জনবল নিয়েও কর্মীরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগ দুঃখজনক।

ঘটনার বিষয়ে সোমবার দুপুর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিষয়টি পরবর্তী সভায় উত্থাপন করা হবে বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এ ঘটনায় তারা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বুকে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে আসা আবু হানিফ শানু  বা তার স্বজনদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

তবে বাগেরহাট পৌর শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম ভূঁইয়া ওরফে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, রোগীর শরীরে কয়েকবার চেষ্টা করেও ক্যানুলা পরানো সম্ভব হচ্ছিল না। এ নিয়ে রোগী চিকিৎসকের সহায়তা চাইলে কথা কাটাকাটি হয়। এর বেশি কিছু নয়।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর