রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে এনসিপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দলটির নেতাকর্মীরা ইউএনও অফিসে গিয়ে গেট আটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে অবশ্য দফতরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় এনসিপির ওই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে প্রশাসন।
বেলা ১১টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোদাগাড়ী উপজেলা ও পৌরসভা শাখার ব্যানারে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনও অফিসের সামনে জড়ো হন। তাদের কাছে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ। সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের প্রতিবাদে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও।’
রাজশাহী মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আতিকুর রহমান আতিক এতে নেতৃত্ব দেন। এ সময় গোদাগাড়ী উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, গোদাগাড়ী পৌর এনসিপির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রহিম, স্থানীয় জামায়াত নেতা মাহফুজসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে রাজশাহী মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আতিকুর রহমান আতিক বক্তব্যও দেন। তিনি বলেন, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অধিকাংশই বিএনপির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের কারও কারও সার বিক্রির দোকান বা গুদামও নেই।
এরপর ইউএনও অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন এনসিপির নেতারা। এতে সাময়িক জনসেবার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ভেতরে থাকা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় এনসিপির নেতারা ইউএনওর পদত্যাগের দাবিও তোলেন। কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে চলে যান।
তবে এ ঘটনার ব্যাপারে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি দলের নেতারা ‘মব’ উল্লেখ করে জড়িতদের সতর্ক করেছেন। রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুল ঢাকা মেইলকে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি ক্ষমতায় ছিল না। সার ডিলারশিপ কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে- আপনারা এবং সারাদেশের মানুষ জানে। সার্কুলার করে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এখানে যাচাই-বাছাই যা কিছু উপজেলা কমিটি জেলা কমিটির মাধ্যমে সুপারিশ যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে অনুমোদন হয়েছে। এখানে দলীয় ক্রাইটেরিয়া বা আদারস কিছু নাই। এখন এনসিপি বা আদারস যারা করছে, দেশে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য সরকারের ভাল উদ্যোগকে বিঘ্ন করার জন্য এই অপচেষ্টা।
তিনি বলেন, তবে আমরা বলতে চাই তাদের উদ্দেশে, এখান থেকে সরে আসুন। সরকারকে সহযোগিতা করুন। এই রবি মৌসুম কৃষক যাতে সার পায়, সে লক্ষ্যে কাজ করুন। সার মজুদ আছে, ডিলার পর্যায়ে যাতে সার কারসাজি না হয়- সেটা তদারকি করুন।
সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, যারা ডিলারশিপ পেয়েছেন তারা যাতে ঠিকভাবে সার দেন। কারণ নোটিশে বলা হচ্ছে, অস্থায়ী ভিত্তিতে তিন মাসের জন্য। কেউ অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে।
রেজাউল করিম টুটুল আরও বলেন, এনসিপি যে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে, এটা না করে তাদের উচিত তিন মাস ওয়েট করা। যেসব ডিলার অনুমোদন হয়েছে, তাদের ফলো করা যে, তারা জনগণকে সার দিচ্ছে কি না? তারা কী পরিমাণ সার বরাদ্দ পাচ্ছে আর কী পরিমাণ জনগণকে দিচ্ছে, এটা তুলে ধরে তখন যদি তারা কথা বলতো, তাহলে এটা গ্রহণযোগ্য হতো। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এটা অবশ্যই নিন্দনীয় অপরাধ। ইউএনওর কাছে সাধারণ জনগণ সার্ভিস নিতে যাবে, সেই জায়গায় যদি এরকম করে এটা বিশৃঙ্খলা ছাড়া কিছুই না। আমরা চাই না কোনো নৈরাজ্য হোক, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি হোক। আর যদি কেউ চেষ্টা করে আমরা প্রস্তুত আছি মোকাবিলা করার জন্য।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ঢাকা মেইলকে বলেন, তাদের কিছু বক্তব্য ছিল- তারা বলেছে। তাদের অভিযোগ ছিল- সেটা বলেছে। তারা স্মারকলিপি দিতে চায়, আমরা বলেছি- দিতে পারেন। তারা একটা ব্যানার নিয়ে এসে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলেছে।
ইউএনও বলেন, তালা দেওয়ার কথা যেটা বলছে, অফিসের গেট খোলাই ছিল। একটা তালা তারা জাস্ট গেটে ঝুলিয়ে দুই তিন মিনিট রেখে সেটা প্রচার করেছে যে, তারা অফিসে তালা দিয়েছে। এটা তাদের আসলে একটু ভিউ বাড়ানোর জন্য। এছাড়া আর কিছু না। স্বাভাবিকভাবে অফিসের কার্যক্রম চলেছে। সরকারি কাজে বাধা দিলে আইনানুগ যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা তা নেব।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইউএনও ছিল মিটিংয়ে, কন্যা শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে ছিল। তারা গিয়ে তালা দিয়ে মিছিল করে ছবি তুলে চলে গেছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি, মামলা হবে। তারা বেশিক্ষণ ছিল না, ৫-১০ মিনিট ছিল। ছবি তুলে অনাকাঙ্ক্ষিত একটা অবস্থা দেখানোর জন্য করেছে। দাবি দাওয়া বা অভিযোগ থাকলে- সেটার আইনগত প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু এমনটা কাম্য নয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন ঢাকা মেইলকে বলেন, সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ করা হয়েছে। আমরা এটার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।
গোদাগাড়ীর ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির বিষয়ে কেন্দ্র্রীয় কোনো নির্দেশনা ছিল না। তারা তাদের সিদ্ধান্তে করেছে।
প্রতিনিধি/এলএ




