লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের কার্যালয়ের তালা ভেঙে একটি গ্রুপ দখলে নিলেও পরে রাতে আবার দখলে নেয় ক্লাবটির বর্তমান কমিটি। ক্লাবটির কার্যালয় দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে উভয়পক্ষ। এই দুই পক্ষই নিজেদের বৈধ হিসেবে স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এদিকে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জাবি করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উভয়পক্ষই পৃথকভাবে স্থানীয় হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করে।
বর্তমান কমিটির পক্ষে দুপুরে নগরীর আর কে রোডে অবস্থিত স্কাই লেন হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বর্তমান ক্লাবটির দায়িত্বে থাকা পরিচালনা পর্ষদ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন- কনভেনশন কো চেয়ারম্যান, রিজিওনাল চেয়ারপারসন হেডকোয়াটার ও লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লায়ন এনামুল হক সোহেল।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান লায়ন্স ক্লাব অত্যন্ত সুনামের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই মধ্যে ক্লাব থেকে বহিষ্কার কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা নিয়ে ক্লাব কার্যালয় দখলের চেষ্টা করে। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি একটি গ্রুপ ভুল বুঝিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উস্কে দিয়ে দখলের অপচেষ্টা চালানোর ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। যারা এই দখলের জন্য চেষ্টা চালিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় নেয়ার জন্য আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব পালন করলেও ফরিদ আহমেদ রুমিসহ একটি গ্রুপ আমাদের ই-মেইল ও সার্ভার হ্যাক করে বেআইনিভাবে নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে সাইবার সুরক্ষায় মামলা করেছি এবং ক্লাব দখলের চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। এসময় তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের প্রেসিডেন্ট লায়ন মনজিল মুরাদ লাভলু, লায়ন একেএম বানিউল আদম বাবু, ক্লাব পরিচালক মো. শাহীন পারভেজ, জোন চেয়ারপারসন ও লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের আইপিপি লায়ন নাসরিন হক ববি, ক্লাব পরিচালক মো. মাহামুদ এলাহী বিপ্লব, লায়ন মোয়াজ্জেম হোসেন কিন্তু, লায়ন জেবুন্নেছা জেবিন, লায়ন আনোয়ারুল হক।
এদিকে অপর পক্ষ নগরীর ডিসির মোড়ে স্থানীয় একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেই সংবাদ সম্মেলনে এই পক্ষের ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফরিদ আহমেদ রুমি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, লায়ন্স ক্লাব অব রংপুর ও 'রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও সুনামের সাথে শিক্ষা ও সামাজিক সেবা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে একটি স্বার্থান্বেষী, সদস্যপদহীন ও তথাকথিত অবৈধ কমিটি ক্লাবের মূল উদ্দেশ্যকে চরমভাবে ব্যাহত করে নানাবিধ অপকর্ম, নজিরবিহীন দুর্নীতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত রয়েছে। রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক ও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এনামুল হক সোহেল সীমাহীন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও কোটি কোটি টাকা অর্থ আত্মসাত করেছেন। এই সব দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় এবং ক্লাব ও স্কুলের আধিপত্য ধরে রাখতে নিয়মবহির্ভূতভাবে আমাদের ছয়জন সাবেক ক্লাব প্রেসিডেন্টসহ ২৯ জন সদস্যকে বেআইনিভাবে বহিষ্কার করা হয়।
একই সাথে তারা মব করে ক্লাবে পিন ও ইমেইল বদলিয়ে তারা অবৈধভাবে ক্লাব কার্যক্রম, তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে রংপুরের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে- যা হাইকোর্টে চলমান।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) নগরীর জি এল রায় রোডস্থ লায়ন্স স্কুল ও কলেজের সম্মুখে সন্ধ্যায় ক্লাব কার্যালয় দখল ও পাল্টা দখলের ঘটনাটি ঘটে। এসময় জোরপূর্বকভাবে লায়ন্স স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠানের গেটে প্রবেশের সময় বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তা বিভাগের ইনচার্জসহ তিনজনকে আহত করার অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে জানালে তারা লায়ন্স ক্লাব কার্যালয়ে জরুরি কাজ আছে দাবি করে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় সিকিউরিটি ইনচার্জ অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট গোলাম রব্বানী ও নিরাপত্তাকর্মী পলাশ চন্দ্র দাস ও আশরাফুল ইসলাম বাধা দিলে তাদের লাঞ্ছিতসহ আহত করা হয়। এরপর ওই বহিরাগত দলটি ক্যাম্পাসের পাঁচতলায় অবস্থিত লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর তারা কার্যালয়ে নিজস্ব তালা ঝুলিয়ে দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। পরে সন্ধ্যার পরে বর্তমান কমিটির সদস্যরা আবার ক্লাবটি তাদের দখলে নেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি জানান, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টগণ ছাড়া অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা না উঠানো পর্যন্ত কোনো পক্ষই সেখানে প্রবেশ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এছাড়াও বর্তমানে লায়ন্স ক্লাব চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ টহলে মোতায়েন রয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ




