সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মৌলভীবাজারের ব্যস্ত সড়কে ফুলের মেলা

পুলক পুরকায়স্থ, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

মৌলভীবাজারের ব্যস্ত সড়কে ফুলের মেলা

মাথার ওপর তীব্র রোদ। চারপাশে গাড়ির শব্দ আর মানুষের ব্যস্ততা। এর মধ্যেই সড়ক বিভাজকের ফুলের ছবি তুলছিলেন এক পথচারী। মোবাইলের ক্যামেরা নামিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘এত শব্দ, এত ব্যস্ততার মধ্যেও ফুলগুলো যেন নিজেদের একটা নীরব জগৎ তৈরি করে রেখেছে।’ পাশে থাকা আরেকজন মন্তব্য করলেন, ‘জায়গাটা তো এক টুকরো বাগানের মতো লাগছে।’

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার পৌর শহরের ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।

আন্তঃজেলা বাস এসে থামছে বাসস্ট্যান্ডে। ঢাকাগামী কয়েকটি বাসও নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। যাত্রীরা কেউ বাস থেকে নামছেন, কেউ গন্তব্যের দিকে ছুটছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলও থেমে নেই। ব্যস্ত সড়কের এই চেনা দৃশ্যের মাঝেই চোখ আটকে যায় সড়ক বিভাজকের ফুলে।

একটির পর একটি গাড়ি ছুটে যাওয়ার সঙ্গে তৈরি হওয়া বাতাসে দুলছে ফুলের গাছ। তীব্র রোদ আর মৃদু বাতাসের মধ্যে সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন নিজেদের মতো করে নেচে চলেছে।

1000247947

মৌলভীবাজার পৌর শহরের মধ্য দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক। মহাসড়কের মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল অংশের শহর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে সড়ক বিভাজকে এখন এমনই রঙিন দৃশ্য। একই সঙ্গে ফুটেছে নানা রঙের ও জাতের ফুল। এর মধ্যে রাধাচূড়া ও কৃষ্ণচূড়াই বেশি নজর কাড়ে।

ছোট ছোট গাছে ফুটেছে রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়াসহ নানা জাতের ফুল। কোথাও হলুদের আধিক্য, কোথাও লাল-হলুদের মেলবন্ধন। সবুজ পাতার ভেতর ফুটে থাকা ফুলগুলো দূর থেকেই পথচারীদের দৃষ্টি টানে। মানুষ ছুটছে, গাড়ি ছুটছে—তার মাঝখানে ফুলগুলো নীরবে শহরটাকে একটু সুন্দর করে রাখছে।

e02f63f6-b332-4518-b728-37b44f1a75f3

ডালে ডালে থোকা থোকা ফুল। কোথাও লাল, কোথাও হলুদ, কোথাও বেগুনি। সবুজের ভেতর থেকে উঁকি দেওয়া এসব ফুল ব্যস্ত সড়কটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক আবহ। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করা মানুষের অনেকের কাছেই দৃশ্যটি হয়ত পরিচিত। তবু পরিচিত সৌন্দর্যও কখনো কখনো নতুন করে মন ভালো করে দেয়।

এই সৌন্দর্য অবশ্য এক দিনে তৈরি হয়নি। জানা গেছে, সড়ক বিভাজকে পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও বিভিন্ন সময়ে ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। সেসব গাছ বেড়ে উঠেছে, ফুল ফুটেছে। আর ব্যস্ত শহরের মাঝখানে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে এই ফুলের উৎসব।

1000247962

পরিবেশকর্মী সোনিয়া মান্নান বলেন, শহরের ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে এ ধরনের ফুলের গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির একটি নীরব যোগাযোগও তৈরি করে। একটি গাছ শুধু ফুলই দেয় না, শহরের মানুষের জন্য একটু স্বস্তির জায়গাও তৈরি করে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, কোলাহলের শহরে সৌন্দর্যের জন্য খুব বেশি কিছু লাগে না। কিছু গাছ, একটু যত্ন আর বেড়ে ওঠার মতো একটু জায়গাই যথেষ্ট। এই সড়কে দাঁড়িয়েও কয়েক মুহূর্তের জন্য চোখ আটকে যায়। রাধাচূড়ার হলুদ, কৃষ্ণচূড়ার লাল আর সবুজ পাতার ভেতর দিয়ে তখন শহরটাকে একটু অন্য রকম মনে হয়।

কবি জাহাঙ্গীর জয়েস বলেন, যারা সড়ক বিভাজকে ফুলের গাছ রোপণ করেছেন এবং যত্ন নিয়েছেন, গাছগুলো যেন তাদের সেই যত্নেরই প্রতিদান দিচ্ছে। নিজেদের সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়ে গাছগুলো এখন পথচারীদের আনন্দ দিচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর