উত্তরাঞ্চলে চায়ের উৎপাদন ও গুণগত মান পর্যবেক্ষণে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দুটি চা কারখানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি মানসম্মত ও নিরাপদ চা উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তিনি উপজেলার ‘বাংলা টি’ ও আজিজনগরে অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ টি’ ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন। পরে সংশ্লিষ্ট চা কারখানার মালিক ও চা শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সফরের শুরুতে ‘বাংলা টি’ কারখানায় পৌঁছালে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে চা বোর্ড চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তিনি কারখানা প্রাঙ্গণে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন।
এরপর কারখানার চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং মালিক শাহ আলমসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে চায়ের মানোন্নয়ন ও চা শিল্পের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে চেয়ারম্যান আজিজনগরে অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি’ পরিদর্শন করেন। সেখানে কারখানার মালিক কাজী আনিছুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়াসহ কারখানার পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চায়ের উৎপাদনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় দেশে সামগ্রিক চা উৎপাদন ১৭ শতাংশ বাড়লেও উত্তরাঞ্চলে এই প্রবৃদ্ধির হার রেকর্ড ৪০ শতাংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৪৭ সালে দেশে চা উৎপাদন ছিল ১৮ মিলিয়ন কেজি। বর্তমানে শুধু পঞ্চগড় জেলাতেই চা উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২৫ মিলিয়ন কেজিতে।’
চায়ের গুণগত মানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে চা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মানসম্মত চায়ের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার চায়ের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ কারণে নিরাপদ ও জৈব উপায়ে পোকা দমনের জন্য বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিটিআরআই) গবেষণা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাষিদের সার সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমতলের চা চাষিদের জন্য সারের বিশেষ বরাদ্দ ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই চাষিরা সেই সার হাতে পাবেন। পাশাপাশি চা শিল্পের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চা আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ. কে. এম. রফিকুল হক, পরিচালক ইসমাইল হোসেনসহ চা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ উৎপাদন পদ্ধতির মাধ্যমে পঞ্চগড়ের চায়ের গুণগত মান আরও উন্নত করে দেশ-বিদেশের বাজারে এর জনপ্রিয়তা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধি/এএইচ



