সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

৪ সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনায় নেই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ভোগান্তি

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

৪ সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনায় নেই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ভোগান্তি
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়

পদায়নের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এতে গত চার সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পদটি শূন্য রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য জেলার একজন কর্মকর্তাকে। নিজ জেলার পাশাপাশি নেত্রকোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম, খাদ্যশস্য স্থানান্তর ও চালকল মালিকদের জামানতের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার ১০টি উপজেলায় ১৪টি খাদ্যগুদাম রয়েছে। এসব গুদামের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির খানকে নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই আদেশে নেত্রকোনার তৎকালীন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়েতাছিমুর রহমানকে ঢাকার সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি নেত্রকোনা ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। তবে সাইফুল কাবির খান এখনো নেত্রকোনায় যোগ দেননি।

পরে কিশোরগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবীরকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আড়াই মাসের প্রশিক্ষণে যাওয়ার পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শেরপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়াকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এ ছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ ও খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের পাশাপাশি খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্যশস্য স্থানান্তরের কাজেও এ কার্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে দুই জেলার দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় নিয়মিত কাজের পাশাপাশি জরুরি বিষয়গুলো সামলাতে সমস্যা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা খাদ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, পূর্ণাঙ্গ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে, দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদও এক মাসের বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ওই গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে কলমাকান্দা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাদী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিরিশিরি খাদ্যগুদামের দায়িত্ব পালন করছেন।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শেরপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া  বলেন, নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি আরেকটি জেলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

 

নেত্রকোনায় পদায়ন করা কর্মকর্তা সাইফুল কাবির খান বলেন, পারিবারিক ঝামেলার কারণে পদায়ন করা কর্মস্থলে যোগ দিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আশা করি, আগামী সপ্তাহে যোগ দেব।ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম বলেন, খাদ্য অধিদপ্তর একজন কর্মকর্তাকে নেত্রকোনায় পদায়ন করেছে। কিন্তু তিনি এখনো সেখানে যোগ দেননি। এতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর