সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে আসামি ছাড়াতে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে থানায় ‘মব’

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ এএম

শেয়ার করুন:

ঠাকুরগাঁওয়ে আসামি ছাড়াতে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে থানায় ‘মব’

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানায় গ্রেফতার দুই আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে লোকজন নিয়ে অবস্থান ও হট্টগোল (মব) সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে থানার ফটকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, ৫০ থেকে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে আসামিদের ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন বিএনপির এই নেতা। তবে জহিরুল ইসলামের দাবি, দলের নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি স্থির থাকতে পারেননি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রুহিয়া উপজেলার কুজিশহর এলাকার বাসিন্দা নাজমিন আক্তারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রুহিয়া থানায় মামলা করেন তিনি। মামলায় কুজিশহর (ঘুরণগাছ) এলাকার ১১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর রাত দুইটার দিকে বেলাল হোসেন (৩৫) ও মো. বদিউজ্জামানকে (৪০) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা ওই মামলার আসামি।

গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকালে তাদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানায় জড়ো হন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারা থানার ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। থানার মূল ফটক বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। বাইরে থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি চিৎকার-চেঁচামেচি করেন তারা।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন নবী ফটকে আসেন। ওসির বলেন, এ সময় জহিরুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে গ্রেফতার ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে বলেন। জবাবে তিনি জানান, তাদের ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বড় ভাই রশিদুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে নাজমিন আক্তারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিপনও জানতেন। তিনি বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন।

রশিদুলের অভিযোগ, মামলা হওয়ার আগেই টাকার বিনিময়ে তার দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে সকালে এলাকাবাসী থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেন।

তবে মামলা হওয়ার আগে গ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মিলাদুন নবী। তিনি বলেন, একটি মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে ৫০ থেকে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম থানায় এসে মব সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং পুলিশের সঙ্গে থেকে আসামিদের আদালতে নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, এখন উপনির্বাচন চলছে। দুপুরে দলের প্রার্থী এলাকায় এসেছিলেন। আর সেই রাতেই দলের কর্মীদের নামে মামলা হলো। সেই মামলায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো। এটা আমি সহ্য করতে পারিনি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, থানায় লোকজনের অবস্থানের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, লোকজন থানার ফটকে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, পুলিশ গ্রেফতার ব্যক্তিদের নিয়ে থানার বাইরে যেতে আশঙ্কা করছিল। পরে তিনি লোকজনকে বুঝিয়ে পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকে আদালতে নিয়ে যান।

আদালতে হাজির করার পর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন পর্যন্ত দুই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর