মানিকগঞ্জে সারের ডিলারশিপ না পেয়ে ক্ষোভে এক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদ ছাড়ার ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ায় দল থেকে অব্যাহতি দিলো যুবদল।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্য সচিক তুহিনুর রহমান তুহিনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাদ্দাম হোসেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পরও প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেলেন সাদ্দাম হোসেন। সারের ডিলারশিপ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তার এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন সাদ্দাম। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া হতাশা।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা দড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং প্রায় চার দশক ধরে সার ব্যবসা করছেন। কিন্তু ২০০৯ সালে ডিলার নিয়োগের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ তার। এরপর অন্য ডিলারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন তারা।
সম্প্রতি নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সাদ্দাম ও তার পরিবার আবেদন করেন। তবে শেষ পর্যন্ত দড়গ্রাম ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান মো. রুহুল আমীন। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হন সাদ্দাম।
নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে সাদ্দাম দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তারা নানা নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে নয়টি মামলা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাবা-ছেলে একসঙ্গে কারাবরণ করেছেন বলেও জানান সাদ্দাম। এত কিছুর পরও প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়ায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।
তবে ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। নিয়োগের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই; পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুবদলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন বলেন, কারো ব্যক্তি স্বার্থের জন্য বিএনপি নয়। এদেশের সকল মানুষের পাশে থাকার দল বিএনপি। সারের ডিলার স্বজনপ্রীতি বা দলের লোক লোক দেখে দেওয়া হয়নি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেওয়া হয়েছে। সাদ্দাম হোসেন সারের ডিলার না পেয়ে দলের পদ থেকে সরে যাবে এমন কথা লেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের ভাব মূর্তিক্ষুণ্ন করেছে। সে জন্য তাকে যুবদলের সদস্যসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ৩ জন করে নাম উপজেলা সার বীজ কমিটি জেলা কমিটি বরাবর পাঠিয়েছিলাম। জেলা কমিটি আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয়ে ৬ অক্টোবর তালিকা প্রকাশ করেছেন।
গত ৬ অক্টোবর সারাদেশের মতো মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নে মো. রুহুল আমীনের নাম রয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ




