ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠন লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখলের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে বিকেলে তালা ভেঙে একটি গ্রুপ দখলে নিয়ে তালা মারলেও, পরে রাতে সেই তালা ভেঙে পুনরায় দখলে নেয় ক্লাবটির বর্তমান কমিটি। অন্যদিকে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্লাব দখলের চেষ্টার ঘটনায় বিভিন্ন জনের মোটরসাইকেল মহড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পথচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেখা যায়, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) নগরীর জি এল রায় রোডস্থ লায়ন্স স্কুল ও কলেজের সম্মুখে সন্ধ্যার দিকে ক্লাব কার্যালয় দখল ও পাল্টা দখলের ঘটনাটি ঘটে। এসময় জোরপূর্বকভাবে লায়ন্স স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠানের গেটে প্রবেশের সময় বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তা বিভাগের ইনচার্জসহ তিনজনকে আহত করারও অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে জানালে তারা লায়ন্স ক্লাব কার্যালয়ে জরুরি কাজ আছে দাবি করে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় সিকিউরিটি ইনচার্জ অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট গোলাম রব্বানী ও নিরাপত্তাকর্মী পলাশ চন্দ্র দাস ও আশরাফুল ইসলাম বাধা দিলে তাদেরকে লাঞ্চিতসহ আহত করা হয়। এরপর ওই বহিরাগত দলটি ক্যাম্পাসের পাঁচতলায় অবস্থিত লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে কিছুসময় অবস্থানের পর তারা কার্যালয়ে নিজস্ব তালা ঝুলিয়ে দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে সন্ধ্যার পরে বর্তমান কমিটির সদস্যরা পুনরায় ক্লাবটি তাদের দখলে নেয়। পরে খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক পরিচালিত লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ক্লাব কার্যালয় দখল নিয়ে তৈরি উত্তেজনায় অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক রোজেন বলেন, বর্তমানে কলেজটিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম চলছে। ক্লাব দখলের চেষ্টার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অত্র ক্লাব কর্তৃক পরিচালিত লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নর বডির সভাপতি লায়ন এনামুল হক সোহেল বলেন, লায়ন্স ক্লাব একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক সেবা সংগঠন। রংপুরের ক্লাবটির দেশজুড়ে যেমন সুনাম রয়েছে, তেমনি রংপুর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট পরিচালনা করে আসছে ক্লাবটি। অথচ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি একটি গ্রুপ ভুল বুঝিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উষ্কে দিয়ে দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। যারা এই দখলের জন্য চেষ্টা চালিয়েছে তাদের আইনের আওতায় নেয়ার জন্য আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করছি।
লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের (২০২৬-২৭ মেয়াদ) নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লায়ন মঞ্জিল মুরাদ লাভলু বলেন, আমরা লায়ন্স ক্লাবের সেবা পক্ষের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ক্লাবের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণে ছিলাম। সেই সুযোগে বহিরাগত একটি দল প্রধান ফটকে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীদের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে। প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি পরিচালনা পর্ষদের আমি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু ফরিদ আহমেদ রুমিসহ একটি গ্রুপ আমাদেরই মেইল ও সার্ভার হ্যাক করে বেআইনিভাবে নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে সাইবার সুরক্ষায় মামলা করেছি এবং শনিবারের হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।
এদিকে জেলা যুবদলের সভাপতি ও লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের অন্য গ্রুপের ক্লাব পরিচালক নাজমুল আলম নাজু বলেন, ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফরিদ আহমেদ রুমি। কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কার্যালয়টি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। শনিবার সেখানে গিয়েছিলাম এবং কার্যালয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত করেছি। আমাদের চলে আসার পর একটি চক্র আবারও তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়েছে বলে শুনেছি।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার (ওসি তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়। এক পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে, অন্য পক্ষ কোর্টে মামলা করেছে। ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে লায়ন্স ক্লাব চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ টহলে মোতায়েন রয়েছে।
প্রতিনিধি/এজে




