রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় স্মৃতি, ভালোবাসা, ত্যাগ ও নানা অভিজ্ঞতার অধ্যায় পেছনে ফেলে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শেরপুর জেলা শাখার সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক রাজিব আহমেদ। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে তিনি উপলব্ধি করেছেন, রাজনীতি জীবনের একটি অধ্যায় মাত্র।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১টা ২ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আবেগঘন একটি পোস্টের মাধ্যমে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজিব আহমেদ।
নিজের ফেসবুক পোস্টে রাজিব আহমেদ জানান, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কারও প্রতি ক্ষোভ, অভিযোগ কিংবা অতীতকে অস্বীকার করার কারণে নয়, বরং জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতেই তার এ সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক জীবনে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মতপার্থক্য থাকা ব্যক্তিদের প্রতিও সম্মান বজায় রাখার কথা জানান তিনি।
রাজনৈতিক পথচলায় দুঃসময়ে পাশে থাকা, ভালোবাসা ও আস্থা দিয়ে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের অবদান স্মরণ করে রাজিব বলেন, সবার প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও সহযাত্রীদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো তার স্মৃতিতে অমলিন থাকবে। একসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার প্রত্যয় নিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে নানা পরিবর্তন, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে এখন এই অধ্যায় থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজের কথা, কাজ কিংবা আচরণে জেনে-অজান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন রাজিব আহমেদ। কারও বিশ্বাসে আঘাত দিয়ে থাকলে কিংবা মনে অভিমান তৈরি হলে, বিদায়বেলায় তাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। কাউকে কষ্ট দেওয়া তার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও লেখেন, রাজনীতি জীবনের একটি অংশ হলেও মানুষের পরিচয়, বিবেক, সম্পর্ক ও মানবিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে পদ-পদবি ও পরিচিতির জৌলুস হারিয়ে গেলেও মানুষের মনে ভালোবাসার জায়গা করে নিতে পারাই জীবনের বড় অর্জন।
অনেক ভাবনা, উপলব্ধি ও স্মৃতি নিয়ে রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, আজ থেকে রাজনীতির এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
পোস্টের শেষাংশে রাজিব আহমেদ জানান, ভবিষ্যৎ জীবন কোন পথে এগোবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও মানুষের ভালোবাসা তার সঙ্গে থাকবে। সাধারণ মানুষ হিসেবে সবার দোয়া কামনা করে আগামী দিনগুলোতে সততা, মর্যাদা ও মানবিকতা বজায় রেখে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, মধ্যরাতে তার এমন ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এলএ




