নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যুবদল নেতা মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে আনুর (৫০) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় রাসেল মাহমুদসহ এজাহারনামীয় আট আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলাটিকে ‘তথ্যগত ভুল’ উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে সংস্থাটি।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়নি, বরং দুর্ঘটনাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ভোরে নিজ ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে তিনি নির্মাণাধীন হেলেনা কটেজ ভবনের নবম তলার একটি অনিরাপদ ও ফাঁকা লিফটের জায়গা দিয়ে নিচে পড়ে মারা যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুল বাতেন মিয়া। তিনি তদন্তে পাওয়া তথ্য, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আনোয়ার হোসেন আনুর মৃত্যুর পর তার বড় ভাই ও মামলার বাদী হাজী আবুল কাশেম বাদশা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
ভাইয়ের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন দেখে হত্যার ধারণা থেকে তিনি ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর পেছনে হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এ ঘটনায় রাসেল মাহমুদ (৩৪), পাপিয়া আক্তার পান্না (৪১), জান্নাত আরা জাহান প্রেরণা (২৩), সারিদ হোসেন (২২), নূর আলম ওরফে মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৭), কাজল (৩৪), রোকসানা আক্তার ওরফে পুতুল (৪৭) এবং গোল মোহাম্মদকে (৬১) মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পিবিআই সদর দপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে আদালতে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।




