নারায়ণগঞ্জে পৃথক তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে কাঁচপুরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে চারজন এবং ফতুল্লায় রাসায়নিক দগ্ধ হয়ে দুই শ্রমিক জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে, শহরের দেওভোগ এলাকায় একটি বাড়ির রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, কাঁচপুরের ঘটনায় দগ্ধ চারজন দুটি পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ফতুল্লায় রাসায়নিক দগ্ধ দুই শ্রমিকের শরীরের প্রায় ৫৪ ও ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
কাঁচপুরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন রোজিনা (৩০), তাঁর স্বামী শরিফ (৩৪), রোজিনার ভাই রিয়াজ (২২) এবং রনি (১৯)।
শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
রোববার ভোরে ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ, শরিফের ৪০ শতাংশ, রিয়াজের ৪০ শতাংশ এবং রনির ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে আগুনে তাঁরা দগ্ধ হয়েছেন।
এদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার একটি রাসায়নিক কারখানায় দগ্ধ হন দুই শ্রমিক। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের শরীরের প্রায় ৫৪ ও ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। আহত শ্রমিকদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, কাঁচপুরের ঘটনায় দগ্ধ চারজনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের ধরন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফতুল্লার ঘটনায় দগ্ধ দুই শ্রমিকও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় একটি বাড়ির রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। ভোরে এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ তিনজন আহত হন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, বিস্ফোরণে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নাম শিখা রানী, মনা আচার্য এবং মনার মা। মনার মায়ের নাম জানা যায়নি।
প্রতিনিধি/এআর




