শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শ্রীমঙ্গলে বইপড়া প্রতিযোগিতায় ল্যাপটপ জিতল ৮ শিক্ষার্থী

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

শ্রীমঙ্গলে বইপড়া প্রতিযোগিতায় ল্যাপটপ জিতল ৮ শিক্ষার্থী

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বই পড়ে মেধা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ল্যাপটপ জিতেছে আট শিক্ষার্থী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গলের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ‘শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব ২০২৬’-এর ফল ঘোষণা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৭৪০ জন শিক্ষার্থীকে বই ও সনদ দেওয়া হয়েছে।

‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান। সঞ্চালনা করেন উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশ। পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবে আটটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ পেয়েছে ফাতেমা জাহান, রাজশ্রী হালদার, অদ্রিজা পাল, আসাদুজ্জামান শিহাব, উম্মে কুলসুম মীম, তাসনুভা সুহা, উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ ও ফাতেমা সুলতানা।

এ ছাড়া প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আরও নয়জন করে শিক্ষার্থীকে সনদ, ক্রেস্ট ও বই দেওয়া হয়েছে।

ল্যাপটপ বিজয়ী শিক্ষার্থী রাজশ্রী হালদার বলেন, তিনটি পর্বে নির্ধারিত বইগুলো পড়ে আমাদের জ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে। আগে আমরা অনেক সময় মোবাইল ফোনে আসক্ত থাকতাম। এখন বই পড়ে নতুন নতুন বিষয় জানতে পারছি এবং নিজেদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পারছি।

ল্যাপটপ বিজয়ী আরেক শিক্ষার্থী তাসনুভা সুহা বলেন, ল্যাপটপটি পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করতে পারব এবং পড়াশোনার বিভিন্ন কাজে এটি আমাকে সহযোগিতা করবে।

ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শ্রীমঙ্গলের ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং উন্মুক্ত ক্যাটাগরির বইপ্রেমীরা অংশ নেন। তিনটি পর্বে উৎসবে প্রায় ৩৮টি বই পড়ানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ল্যাপটপ বা পুরস্কার পাওয়া বড় কথা নয়; বরং বই পড়ার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও মননশীলতার বিকাশ ঘটানোই এ উৎসবের মূল সার্থকতা। তরুণেরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি বইয়ের সঙ্গেও তরুণদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও মননশীলতার বিকাশ ঘটে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। 

শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর