শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলে কার্ড না থাকাদের চাল নেওয়ার স্লিপ দেওয়া এবং নির্ধারিত ২৫ কেজির পরিবর্তে কোথাও কোথাও কম চাল দেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রকৃত জেলেরা।
এদিকে চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারকেও বিতরণস্থলে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছের প্রজনন সুরক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা দিতে নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চরভাগা ইউনিয়নে এ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৬৭৮ জন জেলের জন্য চাল বরাদ্দ রয়েছে।
তবে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইব্রাহিম মল্লিকের ভাষ্য, চরভাগা ইউনিয়নে মোট জেলের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে জেলে কার্ড না থাকা কয়েকজনকে চাল নেওয়ার স্লিপ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আ. রহিম খানের স্লিপ নম্বর ৬৫৫ এবং একই ওয়ার্ডের মরন সরদারের স্লিপ নম্বর ৭৩০। তাদের কাছে জেলে কার্ড না থাকলেও চাল নেওয়ার জন্য স্লিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী চাল পাওয়ার কথা নিবন্ধিত জেলেদের। এ অবস্থায় জেলে কার্ড না থাকা ব্যক্তিদের কীভাবে চাল নেওয়ার স্লিপ দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে স্লিপ পেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
চাল নিতে আসা কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, কোথাও কোথাও নির্ধারিত ২৫ কেজির পরিবর্তে কম চাল দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি সহায়তা বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তবে কতজন জেলে কম চাল পেয়েছেন কিংবা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে মোট কত কেজি চাল কম দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাল বিতরণ কার্যক্রমের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিপন মিয়া। তবে শনিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণ কার্যক্রম কীভাবে তদারকি করা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইব্রাহিম মল্লিক বলেন, চাল বিতরণে অনিয়ম হওয়ার কথা না। আমি অসুস্থ, তাই পরিষদে যাইনি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, যাদের জেলে কার্ড নেই, তারা চাল পাবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, এরকম কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমরা খতিয়ে দেখব।
জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল বিতরণে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
প্রতিনিধি/এলএ




