শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

রাজবাড়ীতে রোহান হত্যার রহস্য উন্মোচন: ৩ ভাড়াটে খুনি গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী 
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

রাজবাড়ীতে রোহান হত্যার রহস্য উন্মোচন: ৩ ভাড়াটে খুনি গ্রেফতার
ফুয়াদ হাসান রোহান হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তিন আসামি

রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৯) হত্যাকাণ্ডের ক্লুলেস রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোহানকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সরাসরি অংশ নেওয়া দুজনসহ মোট তিন ভাড়াটে খুনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১টায় রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

এর আগে একই দিন ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন ও এর আশপাশের এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারপুর এলাকার মো. দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), একই এলাকার মো. গণি সরদারের ছেলে মো. রিয়াজ সরদার (২৩), দাদশী ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মো. সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর ফিরে না আসায় ৬ অক্টোবর তার পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। 

পরবর্তীতে ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দি ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিত তদন্ত শুরু করা হয়। আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও কালো টি-শার্ট দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মরদেহ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সেই উদ্দেশে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে বালু ভর্তি বস্তার সঙ্গে বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা, রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট এবং বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে নিহত রোহানের স্যান্ডেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে ফিরোজ ও রিয়াজ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন এবং শরীফ তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এরা সবাই মাদকসেবী এবং টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করেছে। তদন্তের স্বার্থে মূল পরিকল্পনাকারী বা অর্থ সরবরাহকারীর নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এদিকে রোহান হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার খবর পাওয়ার পর উত্তেজিত জনতা গ্রেফতারকৃত আসামিদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামসুল হক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর