শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মহালয়ায় শুরু শারদোৎসব

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মহালয়ায় শুরু শারদোৎসব
মন্দিরে চলছে দেবীদুর্গার আগমনীর সঙ্গীতানুষ্ঠান। ছবি: ঢাকা মেইল

ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রারম্ভে মহালয়া তিথির মধ্য দিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) দেবি পক্ষের শুভ সূচনা হয়েছে। 

ভোরের আলো ফুটে উঠার সাথে সাথেই মহালয়া তিথির মাহেন্দ্রক্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিববাড়ীতে পুষ্পাঞ্জলি সংসদ পূজামণ্ডপ ও মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরে পবিত্র চণ্ডীপাঠ ও দেবীদুর্গার আগমনীর সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দেবীকে মর্ত্যধামে আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

অনুষ্ঠানে সনাতনী শিল্পগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় দুর্গাদেবীর আগমনীর সঙ্গীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো মণ্ডপ এলাকা। অনুষ্ঠানের শিল্পীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ভক্তরা লাল-সাদা রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পড়ে মহালয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্ত্রপাঠ চলাকালে শঙ্ক ও উলুধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। অনুষ্ঠানে শ্রুতি মুধুর চণ্ডী পাঠের পাশাপাশি আগমনী সঙ্গীতে পুলকিত হয়ে উঠেন তারা। 

ভক্তরা জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমন করবেন। পাঁচ দিন ভক্তদের মাঝে থেকে আবারো বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে স্বামী গৃহে কৈলাশ চলে যাবেন। 

পুষ্পাঞ্জলি সংসদের অনুষ্ঠানের আয়োজক নয়ন কর জানান, মহালয়া তিথির মধ্যদিয়ে এই মর্ত্যধামে মায়ের আগমন ঘটেছে। আজকে আমরা চণ্ডীপাঠ, আগমনী গানের মাধ্যমে মাকে বরণ করেছি। আজকে আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করব- মা যেন সবাইকে ভাল রাখেন। সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারি। 

চয়ন দাস নামে এক ভক্ত জানান, আজকে মহালয়ার মধ্যদিয়ে মায়ের যে আগমনী বার্তা তাতে যেন সারাবিশ্বে শান্তি বিরাজমান করে, আমাদের মাতৃভূমি যেন শান্তিতে থাকে। সকল অশুভ শক্তি যেন বিনাশ হয়, সে কামনা করি। 

শিববাড়ী মন্দিরের পুরোহিত নন্দ কিশোর চক্রবর্তী জানান, মহালয়া হলো পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ। এর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর উৎসবের সূচনা হয়। দেবী দুর্গা এইদিন পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই তিথি দেবী দুর্গার জন্ম এবং অসুর রাজা মহিষাসুরের ওপর তার চূড়ান্ত বিজয়ের বর্ণনা দেয়। পিতৃপক্ষে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে 'জলদান' বা তর্পণ করা হয় এবং পরলোকগত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিববাড়ি, মধ্যপাড়া ইসকন মন্দির, কাল ভৈরব মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে মহালয়া তিথি উপলক্ষে পূজা-অর্চনার আয়োজন করা হয়েছে। 

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর