গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ছেলে সেজে এক তরুণীর আরেক তরুণীকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশে মারধর, কান ধরে ওঠবস করানো ও তওবা পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) পর্যন্ত এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সালিশে কনেকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও বর পরিচয়ে বিয়ে করা তরুণীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও কাবিননামা অনুযায়ী, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে চাঁদনী আক্তার নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘রাসেল’ পরিচয়ে গত ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের কাবিননামায় বর হিসেবে রাসেল নাম ব্যবহার করা হয়।
পরে চাঁদনী ও লাবনীর বিয়ের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রথমে চাঁদনীর বাবা জানতে পারেন। এরপর ঘটনার মীমাংসার জন্য শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসে।
সালিশে স্থানীয় বাসিন্দাদারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে লাবনীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সামনেই বাঁশের কঞ্চি দিয়ে চাঁদনীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, সালিশ চলাকালে চাঁদনীকে বাঁশের বেত দিয়ে মারধর করা হয় এবং কান ধরে ওঠবস করানো হয়। তাকে প্যান্ট-শার্ট পরতেও নিষেধ করেন সালিশকারীরা।
সালিশে উপস্থিত পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজ আহমেদ বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার স্বার্থে এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ঘটনাটি মিমাংসা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনাটি আমার জানা নেই।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।




