শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কুমিল্লায় হত্যার শিকার তাজমিনকে যশোরের নিজ বাড়িতে দাফন

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

কুমিল্লায় হত্যার শিকার তাজমিনকে যশোরের নিজ বাড়িতে দাফন

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ তার নিজ জন্মভূমি যশোরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে ১০টার দিকে জানাজা শেষে সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়। তার এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

এর আগে, আজ ভোরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কিশোরীর মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। গতকাল (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের কন্যা। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত থাকায় তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর (রবিবার) বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাজমিন এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সেদিন সে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে আবার ভোরে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কক্সবাজারে ঘোরাঘুরি শেষে ৭ অক্টোবর (বুধবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা করে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে এসে নামে। 

এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও কোনো সাড়া পাননি বাবা আবদুল আলীম। মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে রাতেই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি নিজের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেখে নিহতের বাবা জামাটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন। 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর