শরতের শুভ্র বাতাসে এখন দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। শক্তির দেবী দূর্গাকে বরণ করে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। জেলায় এ বছর পূজামন্ডপের সংখ্যা বাড়ায় প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে কয়েকগুণ। দিন-রাত এক করে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শেষ মুহূর্তে রং তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে শক্তির দেবী দুর্গার স্বরূপ। সাথে একে একে ফুটে উঠছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ।

আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার দিনে শ্রী শ্রী চন্ডী পাঠের মধ্যদিয়ে মর্ত্যলোকে আবাহন জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর দিনে দেবী বোধন ও ষষ্ঠী কল্পারম্ভের মধ্যদিয়ে শুরু হবে বৃহৎ এই উৎসব।
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে বৃহৎ এই উৎসবের। এ সময় ঢাক-কাসা আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে প্রতিটি মণ্ডপ। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৬শ ২৮টি মণ্ডপে দশভুজা ধারিণী দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হবে। যা গত বছরের তুলনায় ৫০টির মতো বেশী। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশী মণ্ডপ নাসিরনগর উপজেলায়। এই উপজেলায় এ বছর ১৪২টি মণ্ডপে পূজা হবে। এছাড়া নবীনগর উপজেলায় ১৩২টি, সদর উপজেলায় ৮৫টি, বিজয়নগর উপজেলায় ৬৪টি, সরাইল উপজেলায় ৫৬টি, কসবা উপজেলায় ৫৬টি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪৬টি, আখাউড়ায় উপজেলায় ২৯টি ও আশুগঞ্জে ১৮টি মণ্ডপে দশভুজা ধারী দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতনীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেবী দূর্গাকে বরণ করে নিতে ধর্মপ্রাণ পুণ্যার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রস্তুতির শেষ সময়ে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে ও বাসা-বাড়িতে প্যান্ডেল, ডেকোরেশন ও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় চলছে। বিশেষ করে হাতে সময় কম থাকায় শতাধিক প্রতিমা শিল্পীর ব্যস্ততা যেন এখন দিন-রাতজুড়েই। প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, হাতে সময় খুব কম ষষ্ঠী পূজার আগে প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিমার মাটির কাজ শেষ, এখন রং তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গার স্বরূপ ফুঁটিয়ে তোলা হচ্ছে। তবে খড়, বাঁশ, রং, এটেল ও দু-আঁশ মাটিসহ উপকরণের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। সেই অনুপাতে বাড়েনি প্রতিমার দাম। লাভ-লোকসান যাই হোক, প্রতিমা তৈরি করে আমরা আনন্দ পাই।

প্রতিমা শিল্পী ঝন্টু পাল বলেন, এ বছর ১৮টি প্রতিমা তৈরি করছি। সবগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমি, আমার ভাই মন্টু পাল, ৫ জন কারিগর নিয়ে দিন রাত কাজ করে প্রতিমার কাজ শেষ করার পথে রয়েছি। প্রতিমাগুলো এখন রং করা হচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম অধিক বেড়েছে সে অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়েনি। আমরা বংশপরম্পরার অংশ হিসেবে প্রতিমা তৈরি করি। এটি আমাদের আনন্দের অংশ। লাভ-লোকসানের চিন্তা করিনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব প্রবীর চৌধুরী রিপন জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের আয়োজক কমিটির সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা তাদেরকে নিজস্ব ভলানটিয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বলেছি। যে-কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ভলানটিয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, বৃহৎ এই উৎসবকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন সেজন্য পুলিশের টহল টিম দায়িত্ব পালন করবে। একইসাথে শহরের বেহাল সড়কগুলো সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
শাস্ত্র মতে এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে করে আর গমন করবেন নৌকায় করে। নৌকায় গমনের ফলে শস্যশ্যামলা হয়ে উঠবে ধরনী।
প্রতিনিধি/এজে




