শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নড়াইলে স্ত্রীর করা অভিযোগের বিষয়ে যা জানালেন স্বামী

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ এএম

শেয়ার করুন:

নড়াইলে স্ত্রীর করা অভিযোগের বিষয়ে যা জানালেন স্বামী

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার মশাগুনি গ্রামের নাজিম উদ্দীন দেওয়ানের ছেলে সৌরভ দেওয়ানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তারের করা মারধর ও সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন সৌরভ দেওয়ান।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যম দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেছেন।

এর আগে, একই দিন রাতে সৌরভ দেওয়ানের স্ত্রী শাহানাজ আক্তার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগ তোলেন।

সৌরভ দেওয়ান বলেন, গত ৮ মাসে আগে নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান-এর মেয়ে শাহানাজ আক্তারের সাথে আমার পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিবাহের পর আমাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। পরে আমার শ্বশুর আমাকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা নেয়। যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, আমার শ্বশুর লোকজন নিয়ে আমার বাবাকে নিয়ে যান। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আমি আমার বাবাকে উদ্ধার করি। এরপর আমার স্ত্রী আমাকে জানায়, যাকে সে বাবা হিসেবে জানতো তিনি তার সৎ বাবা এবং তার আপন বাবার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সে দাবি করে। সে তার বাবার মৃত্যুর বিচার চায়। তাই আমি সংবাদ সম্মেলন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে, আদালতে এভিডেভিটসহ বিভিন্ন আইনগত ও প্রশাসনিক কাজে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি।

সবকিছু চলার মধ্যেও আমাদের সংসার স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গত (১ অক্টোবর) তারিখে আমি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর (২ অক্টোবর) তারিখে আমার স্ত্রী আমাকে একটি আইফোন ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার তাৎক্ষণিকভাবে কিনে দেওয়ার দাবি করে। আমার আর্থিক সমস্যা, সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় আমি সময় চেয়ে ধীরে ধীরে দেওয়ার কথা বলি। তখন সে জানায়, এগুলো না দিলে সে আর সংসার করবে না।

এরপর (৩ অক্টোবর) তারিখ আনুমানিক রাত ১১টার দিকে পুলিশ, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি, কয়েকজন আমাদের বাড়িতে আসেন। আমার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে আমার স্ত্রী জানায়, সে আর আমার সঙ্গে থাকবে না এবং বাবার বাড়ি চলে যাবে। সেই সময় সে তার জিনিসপত্রের পাশাপাশি আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ জমির দলিল, ব্যাংকের চেক, লকারের চাবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত নথি ও সম্পদ নিয়ে যায় বলে আমি অভিযোগ করছি।

এছাড়া আমার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট তার ফোনে লগইন করা ছিল। বর্তমানে আমার আশঙ্কা, এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য বা অডিও-ভিডিও তৈরি করে আমাকে সামাজিক ও আইনগতভাবে হয়রানি করা হতে পারে। ইতোমধ্যেই আমাকে মামলা ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো, অর্থ লেনদেন এবং বিয়েকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হয়, এই পরিবার, আমার পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়া বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমি কাউকে আগেই অপরাধী বলছি না। আমি শুধু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।

আমি প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ করছি - আমার কাছ থেকে নেওয়া ৫ লাখ টাকা, আমার বাবাকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা, আমার স্ত্রীর বাবার মৃত্যুর অভিযোগ, আমার গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সম্পদ নিয়ে যাওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপব্যবহারের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না। আমি শুধু চাই সত্য প্রকাশ হোক, ন্যায় বিচার নিশ্চিত হোক এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর