বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি, উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি, উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক ছেলে নবজাতক চুরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে এক নারীকে নবজাতক কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

চুরি হওয়া নবজাতকের মা মরিয়ম (১৯)। তার স্বামী শামীম বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি। এটি তাদের প্রথম সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মরিয়মকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরদিন ৬ অক্টোবর সকালে চিকিৎসক ইশরাত হোমায়েরা নীলার তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অ্যানেস্থেশিয়া দেন ডা. তৌহিদ।

মরিয়মের বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চানপুর এলাকায়। তার মা মমতাজ বেগম মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রায় চার বছর আগে মরিয়মের বিয়ে হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম সন্তানের মুখ দেখলেও সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগেই এমন ঘটনায় ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়মের মা মমতাজ বেগম বলেন, মরিয়মকে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার নাতিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। বিয়ের ৪ বছর পর নাতির মুখ দেখেছি, কিন্তু নাতিকে ধরে রাখার ভাগ্য হলো না। আমার কী হবে, আমি বুঝতে পারছি না।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের নার্সিং ইনচার্জ খাদিজা আক্তার সুবর্ণা জানান, বিকেলে মিডওয়াইফ নার্স নুসরাত জাহান এ্যানি, নার্স ফাতেমা আক্তার ও সাদিয়া খানম দায়িত্বে ছিলেন। তারা ঘটনাটি অবগত করার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসি৷ রোগীর সংখ্যা অনেক থাকায় কে কার বাচ্চা কোলে নিয়েছে, সেগুলো খেয়াল রাখা সম্ভব হয় না। তবে রোগীদের একাধিকবার সাবধানে বাচ্চা রাখার জন্য বলা হয়, কিন্তু তারা তা শোনেন না। যে কারণে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শাহিন ভূইয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই হাসপাতালে ছুটে আসেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম। তিনি বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে আসি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম নবজাতককে উদ্ধারে কাজ করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা বলেন, ঘটনার পরপরই হাসপাতালে এসেছি। সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নবজাতক উদ্ধারে কাজ করছে।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে নবজাতক নিয়ে এক নারীকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যাওয়ায় তাকে শনাক্ত ও নবজাতক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর