নতুন করে সংসার পাতার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন ৩৮ বছরের আয়নাল হক। নতুন বউকে ঘরে তুলে বাসর রাতের আনুষ্ঠানিকতাও সবে শুরু হয়েছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয় তার। হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলার আগেই স্বজনদের চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। বিয়ের আনন্দের মধ্য এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া আয়নাল ওই গ্রামের মৃত দানেশ আলীর ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলার হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম।
জানা গেছে, আয়নাল হক টাঙ্গাইল পৌর শহরে ভাড়া বাসায় থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসাও করতেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। গত জুলাইয়ে তার প্রথম স্ত্রী দুই সন্তান, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তার এক বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যান। সেই থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে চরম হতাশা ও কষ্টে দিন কাটছিল আয়নালের।
সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবারের লোকজন তাকে দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দেন। সবার সম্মতিতে বুধবার রাতে পার্শ্ববর্তী খামারপাড়া গ্রামের আ. বারীর মেয়ে রুবিনা খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
কিন্তু কে জানত, এটাই হবে তার শেষ যাত্রা! বাসর ঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন আয়নাল। হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এতে মুহূর্তেই বিয়ের আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে।
হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, নববধূকে ঘরে তোলার রাতেই এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘটনাটি পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। তিনি স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।’
প্রতিনিধি/এমআর




