বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

গাইবান্ধায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় দম্পতি

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

গাইবান্ধায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় দম্পতি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে অটোরিকশা থামিয়ে এক দম্পতিকে মারধর, গলায় থাকা স্বর্ণের হার ও হাতে থাকা চুড়ি ছিনিয়ে নেওয়া এবং স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগী কিবরিয়া হাসান কনক বলেন, মামলা দায়েরের পরও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় তাকে ও তার পরিবারের স্বজনদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কিশামত শেরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে কিবরিয়া হাসান কনক তার স্ত্রী ছন্দা বেগম (২৩) ও আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি অটোরিকশায় করে বিয়ের দাওয়াত শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কিশামত শেরপুরের পাকা রাস্তার চিড়ার মিলসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা দম্পতিকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় ছাব্বির রহমানসহ আরও চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তাদের অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। স্ত্রীকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

কিবরিয়ার দাবি, এ সময় তার স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের হার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তার দুই হাত থেকে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের একজোড়া চুড়িও খুলে নেওয়া হয়। এছাড়া ভ্যানিটি ব্যাগসহ পাঁচ হাজার টাকা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সময় তার স্ত্রীর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতিকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি।

আহতদের প্রথমে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কিবরিয়ার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।  

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেওয়ান মো. রেজাউল করীমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর