দিনাজপুরে গত সাত দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এ সময়ে নতুন করে ৯৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ঢাকা মেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।
গত সাত দিনে উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঘোড়াঘাটে—১৬ জন। এ ছাড়া বিরামপুরে ৩, বীরগঞ্জে ৬, নবাবগঞ্জে ৩, ফুলবাড়ীতে ৩, পার্বতীপুরে ৭, হাকিমপুরে ৪, কাহারোলে ৩ এবং খানসামায় ১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
এ সময়ে বিরল, বোচাগঞ্জ ও চিরিরবন্দর উপজেলায় কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। এ ছাড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলার সব উপজেলা হাসপাতালে প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসেও কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগমুক্ত নয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশক নিধন ও প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যক্রম চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং কোথাও পানি জমতে না দিতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও কমিয়ে আনা সম্ভব।”
প্রতিনিধি/এসএস




