নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জমির দলিল, বিআরএস, নামজারি, জন্মনিবন্ধন, পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স, চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন ও নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র কম্পিউটারে জাল করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিনভর অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত দুটি কম্পিউটার ও তিনটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। পরে দিবাগত রাত একটার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।
আজ বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মোহনগঞ্জ পৌরশহরের স্টেশন রোডের কম্পিউটার দোকানি শাকিল মিয়া (৩২), উপজেলা পরিষদের পাশের কম্পিউটার দোকানি এস এম রাকিবুল হক রাব্বি (২৮) এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কথিত দালাল ঝুটন দত্ত (৪৩)।
শাকিল বারহাট্টা উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের হুমায়ুন মুন্সীর ছেলে, রাব্বি টেংগাপাড়া এলাকার মৃত এ কে এম মাহবুবুল হকের ছেলে এবং ঝুটন হাট মোহনগঞ্জ এলাকার মৃত কালীর সাধন দত্তের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি জাল কাগজের সূত্র ধরে মঙ্গলবার শহরে অভিযান শুরু করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের। প্রথমে স্টেশন রোডে শাকিল মিয়ার কম্পিউটারের তথ্য যাচাই করে জমির দলিল, নামজারি, জন্মনিবন্ধন, পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স, চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন ও নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জাল কাগজপত্র পাওয়া যায়। পরে তাঁকে আটক করা হয়।
শাকিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কথিত দালাল ঝুটন দত্তকে আটক করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদের পাশে রাকিবুল হক রাব্বির কম্পিউটার দোকানে অভিযান চালিয়ে একই ধরনের জাল নথিপত্র পাওয়া যায়। তাঁদের ব্যবহৃত স্মার্টফোনেও জাল কাগজপত্রের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অভিযানে দুই কম্পিউটার দোকান থেকে কয়েকটি কম্পিউটার ও স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পরে ঝুটন দত্তের ব্যক্তিগত চেম্বারে তল্লাশি চালিয়ে পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
পল্লীবিদ্যুত অফিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়দের দাবি, ঝুটন দত্ত দীর্ঘদিন ধরে মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালালি করে আসছিলেন। গ্রাহকদের মিটার ও ট্রান্সফরমার পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসেবে এসব কম্পিউটার দোকান থেকে নকল দলিল ও নামজারিসহ বিভিন্ন সরকারি নথি তৈরি করিয়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেসব কাগজপত্র ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সংযোগ ও ট্রান্সফরমারের জন্য আবেদন করা হতো।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের বলেন, ‘আটক তিনজনের মধ্যে দুজন কম্পিউটার দোকানি এবং একজন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দালাল। দুই দোকানির কম্পিউটার তল্লাশি করে জমির দলিল, বিআরএস, নামজারি, জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন ও নাগরিক সনদসহ বিপুল পরিমাণ জাল কাগজপত্র পাওয়া গেছে। পল্লী বিদ্যুতের দালাল ঝুটন তাঁদের দিয়ে এসব কাগজ তৈরি করিয়ে নিতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বারেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।’
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসের সায়রাত সহকারী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেছেন। আজ সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, মোহনগঞ্জে জমির নামজারি জাল করাসহ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনায় এক কম্পিউটার দোকানিকে সাজাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন সতর্ক ছিল।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কথিত দালাল ঝুটন দত্তের বিষয়ে জানতে মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ইমদাদুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রতিনিধি/এসআই




