বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইলিশ রক্ষায় হাতিয়ায় মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া (নোয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ইলিশ রক্ষায় হাতিয়ায় মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন মনিটরিং করবে।

মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা সংরক্ষণের এ অভিযানের সময় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরগামী জেলেদের মধ্যে ১৫ হাজার পরিবার সরকারি খাদ্য সহায়তা পাবে। প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাতিয়ার কাজীর বাজার, সূর্যমুখী ও দানারদোলসহ বিভিন্ন মৎস্যঘাটের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। কেউ নদী ও সাগর থেকে মাছ নিয়ে ফিরছেন, কেউ আবার নৌকা-জাল গুছিয়ে রাখছেন।

জেলেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে ইলিশের দেখা কম মিললেও শেষ দিকে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়েছে। তবে সবার অভিজ্ঞতা এক নয়। অনেক জেলে এখনো দেনা পরিশোধ করতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা না পেলে তাঁদের সংসার চালাতে কষ্ট হবে।

জেলেরা আরও বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষার অভিযানের নিয়মকানুন সম্পর্কে তাঁরা মোটামুটি জানেন। তবে সংসার চালানোর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা কিছুসংখ্যক জেলে পেলেও অধিকাংশ জেলে এ সুবিধার বাইরে থেকে যান।

উপজেলার রহমত বাজার মৎস্যঘাটের বেলাল মাঝি বলেন, শুরুতে মাছ কম পেলেও শেষ দিকে ভালো মাছ ধরা পড়েছে। এতে দেনা-পাওনা পরিশোধের পর তাঁদের হাতে তেমন কিছু থাকেনি। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা না পেলে সংসার চালাতে অসুবিধা হবে।

কাজীর বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুল সহিদ বলেন, শেষ সময়ে সাগরে ভালো মাছ পাওয়ার যে কথা শোনা যায়, তা সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়। কেউ মাছ পেয়েছেন, আবার অনেকেই খালি হাতে তীরে ফিরেছেন। একই কথা বলেন শাহনাজ ব্যাপারী।

c1b8d299-4c37-413c-9ffd-4d8f2377c625

সূর্যমুখী ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন বলেন, শেষ দিকে মোটামুটি ইলিশ পাওয়া গেছে। তবে তাদের এলাকায় থাকা মাঝি-মাল্লাদের তুলনায় কমসংখ্যক জেলেই সরকারি সহায়তা পান। নিবন্ধন না থাকায় অনেকে সহায়তা থেকে বাদ পড়ে যান।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তর জানায়, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে এবং জাটকা সুরক্ষিত থাকলে নদী ও সাগরে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে। এতে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ আহরণ করতে পারবেন এবং মানুষের ইলিশের চাহিদাও পূরণ হবে। তাই জেলে ও ব্যবসায়ীদের মৎস্য আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

চাঁদপুরে মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

মৎস্য দফতরে তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিতে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। বুধবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুকূলে এ চালের উপ-বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে।

b946b8f8-1776-45e0-8ce2-a81d90def468

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফয়জুর রহমান বলেন, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান কার্যকর এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যান ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশও প্রচারণা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। এবার হাতিয়ায় ১৫ হাজার জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে মোট ৩৭৫ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর