বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শরীয়তপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

শরীয়তপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার
মতিউর রহমান সাগর

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। তবে এরপরও তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ওঠায় এবং দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ থাকায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাগরের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ ওঠে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দেওয়ার। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) নড়িয়া উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের পর এ অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে মতিউর রহমান সাগরের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ অভিযোগটি যাচাই করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এরপরই নড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে সাগর হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এটি সাগরের বিরুদ্ধে ওঠা একমাত্র অভিযোগ নয়। সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের মধ্যেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা বিএনপি।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মতিউর রহমান সাগরকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বহিষ্কারাদেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মতিউর রহমান সাগর। এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, দল তাকে ‘সাময়িক’ বহিষ্কার করেছে। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে বহিষ্কারাদেশ অচিরেই প্রত্যাহার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর