নাটোরের গুরুদাসপুরে ‘কালো জাদুর’ অপবাদ দিয়ে নারী ও কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং গলায় জুতোর মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অমানবিক এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর অন্য দুই নারী বাড়িতে থাকলেও চরম নিরাপত্তাহীনতা ও লোকলজ্জায় বাইরে বের হতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করে থাকলে আমাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানোর অধিকার তো কারও নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বৃদ্ধার মেয়ে জানান, গত মাসের ২২ তারিখে জিয়া নামের এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছিলেন। পরে সোমবার আবারও দলবল নিয়ে বাড়িতে এসে জোরপূর্বক তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরও জানান, তাঁর স্বামী ও মেয়ের জামাই দুজনই বিদেশে থাকেন। সম্পূর্ণ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁদের প্রকাশ্যে চরমভাবে অপমান করা হলেও ভয়ে এলাকার কেউ এগিয়ে আসেননি।
এদিকে অভিযুক্তের বড় ভাই ইয়ারুল সরদার দাবি করেন, তাঁর মেয়েকে বিয়ে-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ‘কালো জাদু’ করা হয়েছে। বিভিন্ন কবিরাজ ও মাওলানার কাছ থেকে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং মেয়ের পেছনে চিকিৎসাবাবদ অন্তত ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের ধরে এনে জুতোর মালা পরিয়ে ঘুরিয়েছে।’
তবে ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা যুবদল সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, ‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যাওয়ায় গত ১৫ দিন ধরে আমি শয্যাশায়ী। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই রাতে এবং সকালে পুলিশ পাঠানো হয় এবং তদন্ত চালানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসটি




