‘ভিপি নুরের নির্দেশ, পাঁচ লাখ টাকার কম হবে না’ এমন একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান চৌধুরী।
এর আগে, সোমবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেনকে আটক করে। আটকের পর দিন মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
লক্ষ্মীপুর জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ফারুক হোসেনকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ফারুক হোসেন সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের (৭ নম্বর ওয়ার্ড) কালিরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইসমাইলের ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি।
মামলার বাদী সোলাইমান চৌধুরী বলেন, “ভিপি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠায় তাঁর ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়, এতে ভিপি নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি ঘটেছে। এ কারণেই আমি মামলাটি করেছি।”
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ জানান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে ফারুক হোসেনকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ড বাবদ প্রাথমিক খরচের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায়। তবে অডিও রেকর্ডটির সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা কোনো ধরনের সম্পাদনা করা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে যুব অধিকার পরিষদের প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, “আমার নাম ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) বলা হয়েছে।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ফারুক হোসেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় একটি চক্র এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর কণ্ঠ কাটছাঁট ও সম্পাদনা করে এই অডিও তৈরি করেছে। ফারুক হোসেন বলেন, “আমার এলাকার সাকিব নামের এক ছোট ভাই পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বললে আমি পাঁচ হাজার টাকার কথা বলি। সেই পাঁচ হাজার টাকাকেই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কাটছাঁট করে পাঁচ লাখ বানানো হয়েছে।”
প্রতিনিধি/এসটি




