রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে পেশিশক্তি প্রদর্শন করে। তারা গরিব পরিবারটিকে জিম্মি করে মুখ বন্ধ রাখার জন্য নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে ও অর্থাভাবে পুলিশ বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেননি অসহায় বাবা-মা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে স্বজনরা তাকে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
অভিযুক্ত সাইফুল খা (৫০) একই গ্রামের মৃত মালু খাঁর ছেলে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুর বাবা জানান, ঘটনার দিন সকালে বাড়ির পাশে আমড়া কুড়াতে গিয়েছিল তার মেয়ে। এ সময় লম্পট সাইফুল খা একা পেয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি ঘন গাছপালার বাগানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী এই নৃশংস দৃশ্য দেখে দ্রুত শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি জানান। আমি মামলা দায়ের করবো। আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা বলেন, আমার বুকের ধন এইটুকুন মেয়েটাকে লম্পট সাইফুল যেভাবে শেষ করে দিছে, আমি তার ফাঁসি চাই। গরিব মানুষ বলে কি আমাদের বিচার পাওয়ার অধিকার নাই? ঘটনার পর থেকেই গ্রামের কিছু প্রভাবশালী লোক আমাদের মুখ বন্ধ রাখতে ভয়ভীতি দেখাইছে, চাপ দিছে। ভয়ে আমরা কোথাও যেতে পারিনি। মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে পরে হাসপাতালে নিয়া আইছি। এখন আমার মেয়ের সুচিকিৎসা আর এই পশুর ফাঁসি ছাড়া আমার আর কোনো চাওয়া নাই।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজবাড়ী জেলা বারের আইনজীবী তপন জানান, একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে হতদরিদ্র পরিবারটিকে জিম্মি করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং সময়মতো চিকিৎসাবঞ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ও অপরাধের শামিল। তিনি অবিলম্বে অভিযুক্ত সাইফুল খা এবং এই ধামাচাপা দেওয়ার সাথে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত আইনি শাস্তি দাবি করেন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনুপ কুমার বিশ্বাস বলেন, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গাইনী বিভাগে ভর্তি করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অপরাধী যতো প্রভাবশালীই হোক না কেন ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রতিনিধি/টিবি




