সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে ১৯ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে ১৯ শিক্ষার্থী হাসপাতালে
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা। ছবি: ঢাকা মেইল

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে প্রায় ১৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে একে একে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, খিচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছে পরিবার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

তবে দুধ পান করেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হয়। দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখতে পান শিক্ষকরা। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। দুধের প্যাকেটের ছবি হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো হয়।

শিক্ষকদের অভিযোগ, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। পরে শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়। দুধ পান করার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, দুধ খাওয়ার পর থেকেই আমার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময়ই কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং দইয়ের মতো অবস্থা দেখতে পাই। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়। দুধ বিতরণ না করার জন্যও বলা হয়েছিল। পরে কর্মকর্তা এসে দুধ পান করে শিক্ষার্থীদের খেতে বলেন। এরপরই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসে। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও তাদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। রাত ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১৯ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে দুধ পান করেই তারা অসুস্থ হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিয়েছি। তাদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুধ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ঘটনার পর বিদ্যালয়ে বিতরণ করা দুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা ও তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তের পরই দুধের মান ও শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর