খেলার মাঠ নেই, নেই খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ। দীর্ঘদিনের এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে নওগাঁর মান্দার বিলকরিল্যা বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিদ্যালয়ের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের অস্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মণ্ডল এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং খেলার মাঠের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে তিনজন শিক্ষক ও পাঁচজন শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবোধ কুমার দাস দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠের স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আসছেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। আগামী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মাঠের সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পাশের একটি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে আসছে। তবে জমিটি নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সেখানে পানি জমে যায়। এতে বছরের দীর্ঘ সময় জমিটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে থাকে। এর মধ্যে সম্প্রতি জমিটির একাংশের মালিক আইল দিয়ে জায়গাটি ঘিরে নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।
সিয়াম, সাদিক, সাকিবসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার জন্য নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত কোনো মাঠ নেই। ফলে নিয়মিত খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। শুধু পড়াশোনা নয়, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার প্রয়োজন হলেও বিদ্যালয়ে সেই সুযোগ নেই। স্থায়ী মাঠের ব্যবস্থা এবং খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক প্রবোধ কুমার দাসের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় তিনিও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
বিদ্যালয়ের অস্থায়ী কমিটির সভাপতি নওফেল আলী মণ্ডল বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠের দাবিটি যৌক্তিক। বিষয়টি সমাধানে তিনজন শিক্ষক ও পাঁচজন শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জমির মালিক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মাঠের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
প্রতিনিধি/এলএ




