রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর দামে ধস, লোকসানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

মো. জাহিদ হাসান মিলু, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর দামে ধস, লোকসানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

হিমাগারে রেখে আলুর ভালো দাম পাওয়ার আশায় ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সেই আশায় এখন যেন গুড়েবালি। হিমাগার ভাড়া, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসানে পড়েছেন তারা। 

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমে মাঠ থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনা বা বিক্রি হয়েছিল। পরে দাম বাড়বে এমন আশায় অনেকে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এখন বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু পড়ে থাকায় লোকসানের শঙ্কা আরও বাড়ছে। 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক আরমান হোসেন বলেন, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় হিমাগারে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম পরে দাম বাড়লে খরচ উঠে লাভ হবে। কিন্তু এখন হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আলুর দাম ১৯ থেকে ২০ টাকা পড়েছে। সেই আলু ১৪ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় লোকসান হচ্ছে। 

A

রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব বলেন, গত ২-৩ মৌসুমে আলু চাষ করে ও হিমাগারে আলু রেখে আমরা অনেক লসের মুখে পড়েছি। এবারও একই অবস্থা। এতে আমার পুঁজি হারিয়ে ফেলেছি। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। সরকারের উচিত আলুর দাম সামঞ্জস্য রেখে আমাদের কৃষকদের বাঁচাতে উদ্যোগ নেওয়া।  

সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর আলু বের হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে চাহিদা নেই। এখনো প্রায় দুই তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে পড়ে আছে। দ্রুত বাজারজাত করা না গেলে লোকসান আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। 

জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় ধীরগতিতে আলু বের হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। 

A

শাহী হিমাগারের ম্যানেজার মো. আল আমিন বলেন, আলুর দাম না থাকায় হিমাগার মালিকরাও চিন্তিত। হিমাগার থেকে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। 

আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের ওপরও। শ্রমিকরা জানান, আলু ওঠানো ও নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় কমেছে তাদের আয়। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। 

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, লোকসান কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতের পাশাপাশি রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে। এতে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু দ্রুত বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর